ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-21

, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ঘুরে আসুন করমজল

প্রকাশিত: ০১:১৯ , ১৮ মে ২০১৮ আপডেট: ০১:১৯ , ১৮ মে ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি, বিপুল বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবন ক্রমেই সৌন্দর্যপিপাসু ভ্রমণকারীদের জন্য হয়ে উঠেছে তীর্থস্থান। ঘুরে আসুন সুন্দরবন, চারপাশে বানরের খেলা, কুমিরের চলাচল এবং হরিণের মায়াবী চোখ, কাঠের ট্রেইলে বনে হাঁটা আপনাকে দেবে এমন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, যার স্মৃতি বয়ে বেড়ানো যায় সারা জীবন।

করমজলে ও হাড়বাড়িয়ায় যা দেখবেন:
মংলা ফেরিঘাট থেকে করমজলের দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার। জাহাজ বা ট্রলারে পৌঁছে যাবেন দেড় ঘণ্টার মধ্যে। ঘাটে নামার আগেই নদীর পাড় দিয়ে বানরের খেলা দৌড়ঝাঁপ আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে। পশুর নদীর ঘোলা পানির মৃদু ঢেউ নৌযানের সঙ্গে দুলিয়ে দেবে আপনার মনটাকেও। ঘাটে নামতেই পাবেন বন বিভাগের কার্যালয়, সুন্দরবনের বড় একটা মানচিত্র। চোখ বুলিয়ে এগোতেই দেখতে পাবেন, দেয়ালে, গাছে বসে আসে, ঝুলছে অনেক রেসাস বানর, কৌতূহলী দৃষ্টিতে আপনার দিকে তাকিয়ে জানাচ্ছে উষ্ণ অভ্যর্থনা। সামনে এগোলেই ওয়াচ টাওয়ার, ওপরে উঠে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন বনের উপরিভাগে।

তবে বানর থেকে সাবধান, আপনাকে জ্বালাতে তারা কিন্তু আছে সব জায়গাতেই। এর সঙ্গেই লাগোয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, দেয়ালে আবদ্ধ হরিণের গায়ে হাত বুলিয়ে সামনে এগোলেই পাবেন ডলফিন শেড। এখানে দেওয়া বিভিন্ন ডলফিনের ছবি ও তথ্য থেকে ডলফিন সম্পর্কে পাবেন বিস্তর ধারণা। এরই অপর পাশে বড় এক শেডে দেখতে পাবেন সুন্দর করে সাজানো কুমিরের ডিম, ছোট ছোট কচ্ছপ, অনেক কুমিরের ছানা। হ্যাঁ, এটা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র লোনাপানির কুমির ও কচ্ছপ প্রজজন কেন্দ্র। এর পাশের পুকুরেই থাকে রোমিও ও জুলিয়েট নামের চমৎকার দুটো কুমির, নাম ধরে ডাকতেই সাড়া দিয়ে চলে আসবে আপনার কাছে।

ঘন বনের ভেতর দিয়ে চলে গেছে একটি কাঠের তৈরি ট্রেইল। নাম মানকি ট্রেইল। পা দিয়েই বুঝতে পারবেন নামের সার্থকতা। চারদিকে সবুজ আর সবুজ, গোলপাতা, সুন্দরী গাছ, কত পাখির কলতান, হাঁটতে হাঁটতে অপর পাশ দিয়ে চলে আসবেন দেড় কিলোমিটারের ট্রেইলটির শেষ প্রান্তে, পাবেন একটি বড় শেড, বসার জায়গা। কিছুক্ষণ সেখানে রেস্ট নিয়ে নিতে পারেন। তারপর আশপাশে আরেকটু ঘুরেফিরে দেখতে পারেন। দেখা শেষ হলে বানরগুলোকে আবার বিদায় জানিয়ে বলে করমজল ত্যাগ করে যাত্রা শুরু করতে পারেন পরবর্তী গন্তব্য হাড়বাড়িয়ার দিকে।

হাড়বাড়িয়া করমজল থেকে অল্প কয়েক কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত। যেতে যেতে দেখবেন নদীপথে ব্যস্ততা কতটা বেড়ে গেছে, ছুটে চলছে ছোট-বড় কত নৌযান, এর কোনোটা পণ্যবাহী, কোনোটা পর্যটকবাহী। হাড়বাড়িয়া যেতে যেতে নদীর দুপাশের সৌন্দর্য দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে, কারণ বন এদিকে আরো ঘন, আরো সুন্দর। দেখবেন নদীর তীরে বানর হরিণ এক ঘাটে পানি খাচ্ছে।

জাহাজে গেলে একটু দূরেই থেমে ট্রলারে ঘাটে যেতে হবে। ট্রলারে গেলে খালের দুধারে গোলপাতা, ছোট ছোট ঢেউ পেরিয়ে সরাসরি পৌঁছে যেতে পারবেন ঘাটে। এখানেও ঘাট থেকে নেমে একটু দূরেই বন বিভাগের কার্যালয়। বসার জন্য এদিকে-ওদিকে বেশ কয়েকটি সুন্দর ছাউনি। কিছুক্ষণ এপাশ-ওপাশ ঘুরে যাত্রা শুরু করতে পারেন বনের ভেতর।

প্রথমেই ছোট খাল, খালের ওপর চমৎকার ঝুলন্ত সেতু। হাঁটতে গিয়ে চোখে পড়ে নানা ধরনের কাঁকড়া, পশুর পায়ের ছাপ। ইটের রাস্তা শেষ হতেই উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার, উপরে উঠে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন এদিক-ওদিক, কী অপূর্ব। নেমে আবার হাঁটা শুরু করুন কাঠের ট্রেইলে, সেই একই রোমাঞ্চ। নিচে তাকালে কত কাঁকড়া, প্রাণীর পায়ের ছাপ দেখা যায়। নাম না জানা নানা পাখির কলতানে মুগ্ধতা নিয়ে হাঁটতে থাকি।

এই এলাকায় বাঘের আনাগোনা বেশি, হাঁটতে হাঁটতে একসময় বাঘের পায়ের ছাপও দেখে ফেলবেন কোথাও না কোথাও। চোখে পড়বে আরেকটি সুন্দর খাল, এটি কুমিরের অভয়ারণ্য। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এলে কুমিরের দেখা মেলা সহজ, রোদ পোহাতে উপরে উঠে আসে তারা। এখানে দেখা মেলে মায়াবী চোখের মায়া হরিণ। হাঁটতে হাঁটতে আবার চলে আসবেন পুকুরের অন্যপ্রান্তে, লাল ইটের রাস্তায়।

দেখবেন বানর লাফাচ্ছে, তাকিয়ে আছে আপনার দিকে, আপনিও তাকিয়ে থাকুন। কেউ কেউ ভেংচি কাটবে, কেউ আবার লজ্জায় লুকাবে বনে। পুকুরের মাঝখানে সুন্দর একটা বসার জায়গা, কাঠের পথ। এখানে একটু বসে রেস্ট নিয়ে, খোশগল্প করে ফিরতে পারেন।

শুরুতেই জানা প্রয়োজন:
সুন্দরবন ভ্রমণ দেশের অন্যান্য স্থানে ভ্রমণের চেয়ে একটু আলাদা। কারণ বনাঞ্চল হওয়ায় মেনে চলতে হয় বেশ কিছু নিয়মকানুন, যেমন বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া, গাইড নেওয়া ইত্যাদি। ফলে নিজের ব্যবস্থাপনায় গেলে ভ্রমণের আনন্দের চেয়ে বিড়ম্বনাই বেশি হতে পারে। ঝামেলামুক্ত, সহজভাবে এবং স্বল্প খরচে সুন্দরবন ভ্রমণে ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তা নেওয়াই ভালো।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকার বিভিন্ন বাসস্টেশন থেকে সরাসরি মোংলা যায় পর্যটন সার্ভিসের অনেক বাস, নামতে পারেন খুলনাও, পরে খুলনা থেকে মোংলা। বাস ভাড়া ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যেই।

কোথায় থাকবেন:
জাহাজে তিন দিনের ভ্রমণে গেলে থাকা-খাওয়ার সব সুব্যবস্থা জাহাজেই থাকে। একদিনের ভ্রমণে গেলে সারা দিন বেড়িয়ে এসে রাতে থাকতে পারেন বন্দর শহর মোংলায়। এখানে আছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল পশুর

সতর্কতা:
নৌকায় ভ্রমণের আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া আছে কি না। বনরক্ষী ছাড়া জঙ্গলের ভেতরে ঢুকবেন না। হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রের কোনো প্রাণীকে খাবার দেবেন না। করমজলে বানরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে খাবার লুকিয়ে রাখুন, মোবাইল, ক্যামেরা, ব্যাগ ইত্যাদি শক্ত করে ধরে রাখুন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঘুরে আসুন মেঘের রাজ্য নীলগিরি

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রকৃতির এক অনন্য দান বান্দরবানের নীলগিরি। যেখানে গেলে দেখতে পারবেন মেঘ আর পাহাড়ের মিতালী। যেখানে মেঘেরা আপন থেকে ছুঁয়ে...

দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৫ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। সকাল সোয়া ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is