ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-17

, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

মহাকাশ হোটেলে সময় কাটাবেন ? জেনে নিন খরচ

প্রকাশিত: ০৭:০৯ , ০৯ মে ২০১৮ আপডেট: ০৭:৫০ , ০৯ মে ২০১৮

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: মহাকাশ থেকে তার আশপাশ ও পৃথিবীর নৈস্বর্গিক দৃশ্য উপভোগ করার জন্য তৈরি হচ্ছে মহাকাশের প্রথম বিলাসবহুল হোটেল ‘অরোরা স্টেশন’। ২০২২ সালের মধ্যে থাকার জন্য প্রস্তুত হবে হোটেলটি। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ হোটেল সম্পর্কে নানা তথ্য।

আমেরিকার মহাকাশ প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্থা ‘অরিয়ন স্প্যান’ এর সৌজন্যে এটি তৈরি হচ্ছে। যেখান থেকে দিব্যি দিনে ১৬ বার সূর্যের ওঠা-নামা দেখতে পারবেন অতিথিরা। সঙ্গে বাড়তি পাওনা ‘মাধ্যাকর্ষণহীন’ ভাবে ভেসে থাকা। আর উঁকি দিয়ে টুক করে যখন খুশি দেখে নেওয়া সাধের পৃথিবীটাকে। বলতে পারেন মহাশূন্যে থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখায়! সে অভিজ্ঞতা নিতে সেদিন আর বেশি দূরে নয়। আর মাত্র চার বছর।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের স্পেস ২.০ সম্মেলনে ওই মহাকাশ হোটেল তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্থাটি যদিও জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই বুকিং শুরু হয়ে গেছে সেই হোটেলের। ১২ দিনের সফর। এক-এক দফায় ৪ জনের বেশি নয়। হোটেলটিতে ২ জন করে উড়ান-কর্মী (ক্রু)সহ মোট ছয় জন থাকবেন বলেও জানা গেছে।

সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ফ্র্যাঙ্ক বাংগারের দাবি, বিশ্ববাসীকে যথাসম্ভব কম খরচে মহাকাশ ভ্রমণ করানোটাই তাঁদের লক্ষ্য। আর সেই ‘সুলভ’ মূল্য আপাতত ঠিক হয়েছে ৯০ লক্ষ ডলার। যা আপনার থাকা-খাওয়ার বিল হিসেবে ব্যয় করা হবে। এরই মধ্যে বুকিং শুরু হয়েছে ৮০ হাজার ডলার দিয়ে। কোনো কারণে যাত্রা বিফল হলে মূল্য ফেরতের ব্যবস্থাও পাকা।

তবে যাওয়ার আগে অন্তত মাস তিনেকের একটি মহাকাশ অভিযানের কোর্স করতে হবে আপনাকে। মহাকাশচারীদের জন্য যেখানে টানা ২৪ মাসের প্রশিক্ষণ লাগে, এ বার তাতেও ছাড়! অরিয়নই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হোটেলে সর্বক্ষণের জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট থাকবে। বিনামূল্যে। যার মানে, চাইলেই আপনি পৃথিবীতে রেখে আসা আপনার প্রিয়জনের সঙ্গে ভিডিও-কলে কথা বলতে পারবেন। সেখান থেকে পৃথিবীর চমৎকার দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ হোটেল পৃথিবীকে প্রতি ৩০ মিনিটে প্রদক্ষিণ করবে। অর্থাৎ হোটেলের অতিথিরা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১৬ বার সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন। হোটেলে বসে অতিথিরা খাবার উৎপাদনের মতো গবেষণায় অংশ নিতে পারবেন।

এসব খাবার তাঁরা উপহার হিসেবে পৃথিবীতে সঙ্গে নিতে পারবেন। সরাসরি পৃথিবীতে লাইভ ভিডিও চ্যাট করা যাবে। এ ছাড়া পৃথিবীতে ফেরার পর তাঁদের বিশেষ সম্মান জানানো হবে। ভরশূন্য অনুভূতির মজা নেওয়া ছাড়াও অতিথিরা মুক্তভাবে হোটেলের ভেতর ভেসে থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু প্রভার দৃশ্য দেখতে পাবেন। ১২ দিনের এ রোমাঞ্চকর যাত্রা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ২০০ মাইল ওপরে লো আর্থ অরবিটে (এলইপি) উড়বেন।

যদিও ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণ অবশ্য আগেও হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৯-এর মধ্যে অন্তত সাত জন ঘুরে বেড়িয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে। তবে তাতে এক-এক জনের ২ থেকে ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হয়েছে। সেই হিসেবে ১২ দিনের এই ঘোষিত প্যাকেজ সস্তাই!

অবশ্য মহাকাশ এই ভ্রমণে খরচ কম বেশি যা-ই হোক, যাত্রী খুব কম পাওয়া যাবে। তবে বার্গনার বলছেন, অরোরা স্টেশন শুধু হোটেল হিসেবে কাজ করবে না; এটি মহাশূন্যে ভরশূন্য অবস্থায় বিভিন্ন গবেষণা ও মহাশূন্যে কারিগরি কাজে মহাকাশ সংস্থাগুলোর জন্য কাজ করবে। বর্তমান বাজার চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও সুবিধা ওরিও স্প্যানে বাড়ানো যাবে বলেই জানান বার্গনার। প্রস্তাবিত ‘অরোরা স্টেশন’-এর মাপ ৩৫/১৪ ফুট। এদিকে আরও কয়েকটি সংস্থা  মহাকাশে হোটেল ব্যাবসায় নামতে চাইছে বলে শোনা যাচ্ছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

হঠাৎ অদৃশ্য হয় যে প্রাণী

ডেস্ক প্রতিবেদন: সমুদ্রে কিছু প্রাণী অদৃশ্য হতে পারে। বিষয়টি নানা প্রশ্ন জাগায়। আসলে কি এমন প্রাণী আছে? হ্যাঁ, কিছু প্রাণী রয়েছে যারা নিজের...

মাছও রাস্তা পার হয়!

ডেস্ক প্রতিবেদন : রাস্তার মাঝখানে বেশ খানিকটা জায়গা ফাঁকা। দুই পাশেই যানবাহনের ছোট সারি। হঠাৎ দেখায় মনে হদে পারে ট্রাফিক সিগনালে আটকে আছে...

কাজের ফাঁকে বিরতি নিন

ডেস্ক প্রতিবেদন: বিশ্বব্যাপী হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর হার বাড়ছে। হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছে বহু মানুষ। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা প্রতিবেদন বলছে,...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is