ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫

2019-02-16

, ১০ জমাদিউল সানি ১৪৪০

পাহাড়ে রংধনু!

প্রকাশিত: ০৩:৫০ , ০৩ মে ২০১৮ আপডেট: ০৩:৫১ , ০৩ মে ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: চীনের ঝানগায়ি দানজিয়া ল্যান্ডফর্ম জিওলজিক্যাল পার্কে কেউ যদি যান, তো সেই স্মৃতি চিরস্থায়ী হয়ে যাবে। গানসু প্রদেশের এই পার্কের পাথুরে ভূমিতে রংধনু এঁকে দিয়েছেন প্রকৃতি। এখানকার পর্বতমালা 'রেইনবো মাউন্টেন্স' নামে পরিচিত। এ নাম ছাড়া আর কিছু দেওয়া যায় না অবশ্য। আকাশের রংধনু যে পর্বত হয়ে ধরায় আসতে পারে, তা এখানে না গেলে বোঝা যাবে না। সত্যিকার অর্থেই এক কল্পলোকের দুনিয়া যেন।

একে 'চীনের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন' বলেন অনেকে। এই পর্বতমালার পরতে পরতে খনিজ পদার্থ ঠাসা। নাটকীয়ভাবে ম্যাগনেটা, ম্যারুন এবং লেমন রংয়ের পাথর সৃষ্টি হয়েছে এখানে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের নতুন সদস্য দানজিয়া। কয়েক দশক পেরিয়েছে পর্যটকের ভীড় লেগেই থাকে। এই স্থান একবার দেখলেও যেন স্বাদ মেটে না। বিস্তর ভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতমালা রংধনুর রংয়ে সাজানো। খোদ ঈশ্বর যেন এই রং করে দিয়েছেন। এই কাজ মানুষের পক্ষে সম্ভব না।

ছবিগুলো দেখলে অতিরঞ্জিত মনে হয়। কিন্তু চিত্রটা এমনই। অনেকে ছবি দেখে বিশ্বাস করেন না যে এমন স্থান রয়েছে পৃথিবীর বুকে। হয়তো প্রযুক্তি কারসাজিতে অনেকেই রং বাড়িয়ে ছবি ছড়িয়ে দিয়েছেন ইন্টারনেটে। এ কারণে চোখের সামনে হয়তো রং কিছুটা কম উজ্জ্বল মনে হবে। কিন্তু সত্যিকার অর্থেই রংধনুর মতো রং ছড়িয়ে রয়েছে পর্বতজুড়ে।

এই পর্বতাঞ্চলের প্রাথমিক রংটা হলো গাঢ় লাল স্যান্ডস্টোন। এটা আসলে আয়রন অক্সাইডের পরত যা কিনা হেমাটাইট নামেও পরিচিত। বৃষ্টির পানিতে মিলে অক্সিজেন অক্সিডাইজের উপাদান আয়রন ক্রমেই আয়রন অক্সাইডে পরিণত হয়। গোটা রেইনবো মাউন্টেন্স আসলে দানজিয়ায় বিশেষভাবে গঠিত স্যান্ডস্টোনের ওপর আয়রন অক্সাইডের প্রভাব বিধ্যমান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই উপাদানটি গাঢ় লালচে রঞ্জক তৈরি করেছে।

ভূতাত্ত্বিকদের কাছে এই স্থান গোটা এক গবেষণাগার। লাখ লাখ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের স্তরে বিভিন্ন ধরনের পাথর মিশে গেছে একে অপরের সঙ্গে। রেড স্যান্ডস্টোনের সঙ্গে হয়তো অন্য কোনো খনিজ মিলে ভিন্ন রংয়ের পাথর বানিয়েছে। পরে আজ থেকে ৪০ বা ৫০ মিলিয়ন বছর আগে টেকটোনিক প্লেটের তীব্র সংঘর্ষে বিভক্ত হয় ভূমি। ভবিষ্যতের ভারত সৃষ্টি হয়। ইউরোশিয়াও গড়ে ওঠে এই সংঘর্ষে।

১৯২০ এর দশকে এই স্থানকে মানচিত্র আনেন চাইনিজ প্রতœতাত্ত্বিকরা। পরে তা দ্রুত বিখ্যাত হয়ে যায়। ২০০৯ সালে ইউনেস্কো হেরিটেজ তালিকায় স্থান করে নেয়। স্থানটি প্রদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে কিছুটা বাইরে। তাই অনেকেই চিনতেন না। এমন একটি স্থান সবার আড়েলে থাকা সত্যিই অবাক করার মতো বিষয়।

এমন নাটকীয় রংয়ের ছড়াছড়ি অবশ্য কেবল দানজিয়াতেই রয়েছে তা নয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়াতেও রঙিন পাহাড় দেখা যায়। কিন্তু চীনের এই বিস্তর ভূমি আসলেই বিস্ময়কর।  

সূত্র : ইন্টারনেট

 

এই বিভাগের আরো খবর

কেশর ফিরনি

ডেস্ক    প্রতিবেদন: যে কোন উৎসব কিংবা বিয়ে বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নে ফিরনি থাকা চাই। আর এই ফিরনি যদি হয় কেশর ফিরনি তাহলে কোন কথাই নেই। অতিথি...

ঘরে তৈরি করুন বিফ নাগেটস

ডেস্ক প্রতিবেদন: বর্তমান সময়ে 'বিফ নাগেটস' অনেকেরই পছন্দ। মুখরোচক খাবার বিফ নাগেটস টিফিনে কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারেন সহজেই। চলুন...

ভালোবাসা দিবসের উপহার

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্ব ভালবাসা দিবস আজ। সব কিছু ঠিকঠাক প্রস্তুতি সম্পন্ন, কিন্তু এখনো সঙ্গিকে কি উপহার দিবেন ঠিক করতে পারেননি? দেখে নিন এক...

প্রথম ডেটিং! মাথায় রাখুন কিছু বিষয়

অনলাইন ডেস্ক: প্রেম করা যতটা সহজ, প্রথম ডেট করাটা কিন্তু ততটা সহজ নয়। এটা অনেক বেশি বুদ্ধিমত্তার ব্যাপার। আবার ডেট করাটা অনেক সময় বিপদজনকও...

মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ডিম

ডেস্ক প্রতিবেদন : উপকরণ: - ডিম ৪ টি - মিষ্টি কুমড়া ৫০০ গ্রাম বা এক ফালি - পেঁয়াজ পাতলা চাকা করে কাটা ৪ টি - কাঁচামরিচ ৫-৬ টা ফালি করে কাটা - আদা...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is