ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-20

, ৯ মহাররম ১৪৪০

টেলিফোন সংযোগ পাওয়া ছিল সোনার হরিনের পাওয়ার মত

প্রকাশিত: ০৯:৫৫ , ০৩ মে ২০১৮ আপডেট: ১১:১৭ , ০৩ মে ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরাবরই রাষ্ট্রীয় টেলিফোনের চাহিদা ছিল বিপুল। স্বাধীনতার পর তা আরও বাড়ে। কিন্তু সরকারি কর্তৃপক্ষের সংযোগ দেয়ার সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বরাবরই ছিল নগণ্য। আর্থিক সামর্থ্য ছিল বহু লোকের, কিন্তু তা যথেষ্ঠ ছিল না রাষ্ট্রীয় টেলিফোনের সংযোগ পেতে। বাড়তি ঘুষ ও প্রশাসনের প্রভাবশালী কারো সাথে সক্ষতার দরকার পড়তো। নব্বইয়ের দশকে টেলিফোন সেটকে ঘিরে দেশে বড় বাজার গড়ে উঠলেও তা দ্রুত হারাতে হয় মোবাইলের যুগ চলে আসায়।  
স্বাধীনতার পর দেশের খুব নগণ্য সংখ্যক লোকই টেলিফোন সুবিধা ভোগ করতে পারতো। কল করতে হত সনাতনী পদ্ধতিতে। বিদেশে কথা বলার ক্ষেত্রে টেলিফোন অফিস এক্সচেঞ্জে যোগযোগ করে নির্ধারন করতে হত কথা বলার উপযুক্ত সময়। আবার অভ্যন্তরীন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কথা বলার ক্ষেত্রে কল রেটের পরিমান বেশি হওয়ায় বিকল্প পথ বেছে নিতো সেবা প্রত্যাশীরা।   
চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত যোগানের কারনে সামর্থ্য থাকা স্বত্বেও টেলিফোন সংযোগ পেতে প্রত্যাশী গ্রাহকদের ধর্ণা দিতে হত বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে। তেমনই একজন রাজধানীর মিরপুরের কোহীনূর আক্তার পারুল। আঁশির দশকে যখন একটি টেলিফোন সংযোগ সোনার হরিণ পাওয়ার মত প্রায় অসম্ভব ব্যাপার ছিল, ঠিক তখনই ১৯৮৩ সালে সরকারী পর্যায়ে দেন দরবারের পর নিজের বাড়িতে ব্যক্তিগত সংযোগ পান।
নব্বইয়ের দশকে এসে টেলিফোন সংযোগের চাহিদা এবং যোগানের পরিমান বেড়ে যাওয়ায় শুধু টেলিফোন সেটকে ঘিরেই প্রায় ৬০ কোটি টাকা সমমূল্যের বড় বাজার গড়ে ওঠে রাজধানীর গুলিস্তান ও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেটে। সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া থেকে আনা সেটগুলোর এক একটির দাম শুরু হত তিন থেকে চার হাজার টাকা থেকে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তারবিহীন মোবাইল ফোন চালু হওয়ায় বাজার হারাতে শুরু করে টেলিফোন সেটের ব্যবসায়ীরা।  
প্রযুক্তির এই যুগে টিকে থাকতে ল্যান্ডফোন সেটে আনা হচ্ছে বৈচিত্র্য। যুক্ত করা হচ্ছে নতুন নতুন সব সুবিধা।
মোবাইলে সুযোগ সুবিধা বেশি থাকায় দিন দিন ল্যান্ডফোনের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকে। তবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এখনো এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন এই ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is