ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-16

, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

‘রাজধানীর ৮৭ শতাংশ গণপরিবহন নৈরাজ্যে জড়িত’

প্রকাশিত: ০৫:৪২ , ২১ এপ্রিল ২০১৮ আপডেট: ০৫:৪২ , ২১ এপ্রিল ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে চলাচল করা ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাস নৈরাজ্য এবং বিশৃঙ্খলার সাথে জড়িত। এসব গাড়ির চালকরা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে বেপরোয়াভাবে যান চালান।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গোলটেবিল আলোচনায় এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

‘সড়কে নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনা: উত্তরণের উপায়’ র্শীষক আলোচনায় সমিতির সমীক্ষা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়- বর্তমানে সারাদেশে ৩১ লাখ নিবন্ধিত যানবাহনের সাথে অনিবন্ধিত, ভুয়া নম্বারধারী ও অযান্ত্রিক যান মিলে প্রায় ৫০ লাখ গাড়ি রাস্তায় চলছে, যার ৭২ শতাংশ ফিটনেস অযোগ্য।

অন্যদিকে, ৭০ লাখ চালকের মধ্যে মাত্র ১৬ লাখ চালকের হাতে বিআরটিএ’র লাইসেন্স আছে।

সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ সেলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ১ হাজার ৭৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১ হাজার ৮৪১ জন নিহত ও ৫ হাজার ৪৭৭ জন আহত হয়েছেন। পঙ্গু হয়েছেন ২৮৮ জন।

এছাড়া, দেশের সড়ক ও মহাসড়কে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬৪ জন প্রাণ হারাচ্ছেন। আর দেড় শতাধিক মানুষ আহত হচ্ছেন বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

আলোচনা সভায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘এসব দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলতে চাই। কেননা সড়কে অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রেখে আমাদের নৈরাজ্যকর পরিবেশে যাতায়াতে বাধ্য করা হচ্ছে।’

‘মালিকরা দৈনিক চুক্তি হিসেবে চালকদের হাতে বাস তুলে দেন। তাই চালকরা বেশি যাত্রী বহনের জন্য ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। এমন পরিস্থিতিতে চালকদের বাসের নিচে কে পড়ল বা কার হাত-পা গেল তা দেখার সময় তাদের থাকে না।,’ যোগ করেন মোজাম্মেল হক।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে যে নতুন আইন করা হচ্ছে তাতে সবার মতামতের প্রতিফলন হয়নি। তাই এ খাতে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা কঠিন। প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনটি পাশ করার আগে সবার মতামত নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিটিসিএর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এসএম সালেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া একটি সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে ঢাকা শহরের গণপরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনা দূর হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, পরিবহন খাতের কর্মীদের মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা না গেলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়তে থাকবে। তিনি অবিলম্বে নৈরাজ্য বন্ধে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ১০টি সুপারিশ দেয়া হয়। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো- প্রতিযোগিতা বন্ধে কোম্পানি ভিত্তিক একই রঙের গাড়ি চালু, আমলাতন্ত্রের বাইরে এসে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, ট্রাফিক বিভাগের জবাবদিহিতা, দৈনিক জমাভিত্তিক বাস ইজারা বন্ধ, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা, ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা সরাসরি ব্যাংকে জমা ও ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ

 

এই বিভাগের আরো খবর

পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারসহ ৮ দফা দাবিতে সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে চলছে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is