ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-22

, ১১ মহাররম ১৪৪০

অস্তিত্ব হুমকিতে ঢাকার টিকে থাকা ১৩টি খাল

প্রকাশিত: ০৯:২৮ , ০৫ এপ্রিল ২০১৮ আপডেট: ০৪:১৮ , ০৫ এপ্রিল ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৬৫টি খালের চিহ্ন মিললেও এখন সর্বোচ্চ ১৩টি খাল সংগ্রাম করে বেঁচে আছে রাজধানী ঢাকায়। এরমধ্যে ২/৩টি ছাড়া বাকিগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা মেলে, দখল-দূষণের মহোৎসবের কবলে খালগুলো। অনেক খালের জায়গায় উঠেছে সুবিশাল ভবন, হয়েছে বড় বড় সড়ক।

মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারিবদ্ধ এই ভবনগুলো মোহাম্মদপুরের কাঁটাসুর এলাকায়। কল্পনা করা কঠিন, মাত্র তিন দশক আগেও এ পথ ধরেই চলেছে বড় বড় নৌকা। কাটাসুর খালে এখন স্থান করে নিয়েছে হাউজিং সোসাইটি। সরেজমিনে গিয়ে সেই খালের চিহ্ন না মিললেও ড্রেনের মতো খানিক জায়গার দেখা মেলে। দু’পাশ বাঁধানো সেই ড্রেনটিও পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। পানি প্রবাহিত হওয়াতো দূরের কথা এগুলো এখন মশা-মাছির প্রজনন কেন্দ্র।

কল্যাণপুর ব্রিজ থেকে পুর্ব দিকে এগিয়ে গেলে ক্রমশই খালটি সরু হয়েছে দখল-দূষনে। আশপাশের  বাসাবাড়ির ময়লা ফেলার জায়গা এই খালগুলো। সুয়ারেজ লাইনও মিলেছে খালে। কিছু অংশে দু’ধার বাধানো থাকলেও বাকি অংশগুলো অরক্ষিত। ফলে জৌলুস হারিয়েছে এসব খাল।

মিরপুরে রুপনগর খালের চিত্র এটি। কাগজে কলমে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ হবার কথা, বাস্তবে অনেক কম। খাল দখল করে এমনিভাবেই গড়ে উঠেছে রিক্সার গ্যারেজ। আবার দখলের মাত্রা বাড়ায় গতিপথ হারিয়েছে খালের এ অংশ। আবার বোটানিক্যাল গার্ডেন অংশে দীর্ঘদিন পরিস্কার না করায় ময়লা আর কচুরিপানায় ভড়ে গেছে পুরো খাল।

ওদিকে যাত্রাবাড়ির কুতুবখালি খালের চিত্র এটি। একসময় এ খাল দিয়ে অনায়াসেই বড়বড় নৌকো চললেও এখন তা শুধুই ইতিহাস। চারপাশ থেকে দখলের যেনো মহোৎসব। যে যেমনভাবে পেরেছে দখল করেছে। এমনকি বাজার চলে এসেছে খালের ওপর।

মোঘল আমলে খনন করা হয়েছিলো ধোলাইখাল। সেখানে এখন বড় রাস্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ওয়াসার দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা এই জলাশয়টি খালের স্মৃতি বহন করে আছে।

৬০ ফুট প্রশস্ত বাসাবো খালের বর্তমান চিত্র এটি। মহাখালীর ৬০ ফুট খাল পনের ফুটে নেমেছে। ...
কিছুটা ভিন্ন চিত্র রামপুরা বনশ্রী খালে। দখলমুক্ত হয়ে মেরাদিয়া খিলগাও এর দিকে এগিয়েছে খালটি। তবে, দূষিত পানি আর ময়লা আবর্জনায় স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে রামপুরা বনশ্রী খাল। তবুও এমন নৌকা চলাচলের দৃশ্য মেলে।

ঢাকার অধিকাংশ খাল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বেশকিছু এলাকার পানি সেগুনবাগিচা খাল দিয়ে নিষ্কাশন হলেও সেখানেও এখন বিশাল অট্টালিকা।

মানচিত্রে পাওয়া অবশিষ্ট ২৬টি খালের মধ্যে ১৩টি খালের রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে ঢাকা ওয়াসা। এরমধ্যে ২০০৫ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৮টি খাল উন্নয়নে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক ক্লাব প্রতিষ্ঠার চর্চা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি ভাষা হলেও ক্লাব বললেই সবাই এর অর্থ বোঝে। দেশে নানা ধরনের ক্লাব রয়েছে। যেমন- খেলার ক্লাব, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন...

চিংড়ি রপ্তানি মাত্র চারভাগের একভাগ, চাষে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাগদা ও গলদাসহ মাত্র পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ করা সম্ভব হয়। চাষ থেকে...

দেশে পাঁচ প্রজাতির চিংড়ি চাষ, আধুনিকায়ন হলে বেশি উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিংড়ি চাষ খুব জটিল নয়, তবে নিরিড় পরিচর্যা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এইখানটায় দুর্বলতা চাষের চার দশকেও দূর করা যায়নি। তবে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is