ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-22

, ১১ মহাররম ১৪৪০

সৌন্দর্যের চাদর বিছানো রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য

প্রকাশিত: ০৬:০৩ , ১৩ মার্চ ২০১৮ আপডেট: ০৬:০৩ , ১৩ মার্চ ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জে  রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে যেন সৌন্দর্যের চাদর বিছানো। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর বনগুলোর অন্যতম একটি রেমা-কালেঙ্গা। পাতা ঢাকা রাস্তা দিয়ে বনের যতই ভেতরে প্রবেশ করবেন মন ততই বলবে আরও ভেতরে যাওয়ার। নানা প্রজাতির পাখিদের কলতান আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে।  একবার এর রূপ লাবণ্য প্রত্যক্ষ করলে বার বার ছুটে যেতে ইচ্ছে করবে সেখানে। রেমা-কালেঙ্গার প্রকৃতি এমনই মনোমুগ্ধকর যে মনে হবে প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে এই বনকে। 

রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি বাংলাদেশের একমাত্র ভার্জিন বন। রেমাকালেঙ্গা অভয়ারণ্য হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত। এটি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার খুব কাছে এবং ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। হবিগঞ্জ জেলায় বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের তিনটি বিট: কালেঙ্গা, রেমা আর ছনবাড়ী নিয়ে এই অভয়ারণ্য। 

রেমা-কালেঙ্গায় যা দেখবেন: 
বনের মধ্যে প্রবেশের পর চোখে পড়বে অসম্ভব সুন্দর একটি লেক। লেকের চারপাশ এতই প্রাকৃতিক যে, মনেই হবে না এটা কৃত্রিম। বন্য প্রাণীদের খাবার পানির চাহিদা মেটাতেই এটি তৈরি করা হয়েছে। লেকের পাশে রয়েছে একটা ওয়াচ টাওয়ার। ইচ্ছে করলে উঠে যেতে পারবেন টাওয়ারে। ওপর থেকে পুরো বনভূমি দেখার আনন্দই আলাদা। যত দূরে চোখ যাবে শুধুই প্রত্যক্ষ করবেন দুর্ভেদ্য জঙ্গল।

এই অভয়ারণ্যে ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ, গাছ-পালা, লতা-পাতা আছে। উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদগুলোর মধ্যে রয়েছে-আওয়াল, সেগুন, কাঁকড়, নেউড়, হারগাজা, গন্ধরই, হরীতকী, বহেরা, জাম ডুমুর, কাঠাল, চামকাঠাল, কাউ, কদম, রাতা, চিকরাশি, চাপালিশ, নিম, বনমালা ইত্যাদি।

আছে ৭ প্রজাতির উভয়চর প্রাণী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৬৭ প্রজাতির পাখি। উল্লেখযোগ্য পাখিগুলো হচ্ছে-ভিমরাজ, পাহাডড় ময়না, কাও ধনেশ, বনমোরগ, ফোটা কান্টি সাতভারলা, শ্যামা, শালিক, শামুক খাওরি, টুনটুনি ইত্যাদি। ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য-কালো বন্যশুকর, সাদা বন্যশুকর, বানর, হনুমান, মুখপোড়া হনুমান, খরগোশ, ছোট হরিন, মেছোবাঘ, মেছোবিড়াল, বনকুকুর, প্রভৃতি। ভাগ্য ভালো থাকলে হরেক রকমের প্রাণীর দেখা পাবেন আপনি। ভিন্ন এক জগতের আবহ ভেসে উঠবে আপনার চোখের সামনে।

এই বনে টিয়া পাখির বিচরণ অত্যধিক। ঝাকে ঝাকে উড়ে টিয়া। আর মায়া হরিনের দল বেধে দৌড়ানোর দৃশ্য আপনাকে নিয়ে যাবে কল্পনার জগতে। বনের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বেশ ক’টি ছড়া। গ্রীষ্মে এগুলোতে পানি কম থাকলেও বর্ষায় থাকে পরিপূর্ণ। গ্রোতও থাকে প্রবল। ছড়াগুলো এই বনের সৌন্দর্যে যুক্ত করেছে অন্যমাত্রা। সারা বছরই উন্মুক্ত থাকে এই অভয়ারণ্য। যে কোনো সময় পরিবার পরিজন নিয়ে, ঘুরে আসতে পারেন রেমা-কালেঙ্গা থেকে। 

এই বনে ৩ টি আধিবাসী সম্প্র্রদায়ের মানুষের বসবাস। ত্রিপুরা, সাওতাল, উড়ং এই তিন সম্প্র্রদায় মিলে মিশে এখানে বসবাস করছে যুগ যুগ ধরে। যা দেশের অন্যকোথাও বিরল।

একসময় গোটা বনে ছিল বাঘ-ভালুকের রাজত্ব। বড় বাঘ আর চিতা বাঘের কান ফাটানো গর্জনে কাঁপত পুরো বন। তখন বনে, রাতে পথ চলত না কেউ। কালেঙ্গা থেকে রেমায় একটা সুন্দর পথ চলে গেছে। এটা ধরে এগুতে থাকলে বন আর বনের প্রাণি দুটোই দেখা যায় চমৎকারভাবে।

রেমা-কালেঙ্গায় কীভাবে যাবেন: 
দুভাবে রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে সিলেটগামী বাস কিংবা ট্রেনে চড়ে নামতে হবে শায়েস্তাগঞ্জ। সেখান থেকে অটোরিকশা চেপে যেতে হবে কালেঙ্গা। বাসে শায়েস্তাগঞ্জের ভাড়া আড়াইশ থেকে ৩০০ টাকা। 

শায়েস্তাগঞ্জে থামে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেস। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টায় ঢাকা থেকে ছাড়ে এই ট্রেন। ভাড়া ১২০ থেকে ৬৭৩ টাকা। শায়েস্তাগঞ্জ থেকে কালেঙ্গার বেবি টেক্সি ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর ২টায় ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। আর বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। 

শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৪টায় ছাড়ে কালনী এক্সপ্রেস। ভাড়া ১১৫ থেকে ৭৬৫ টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১৪০ থেকে ৯৪৩ টাকা। 

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এনা পরিবহন ইত্যাদি বাস শ্রীমঙ্গল যায়। ভাড়া সাড়ে ৩০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা।

শ্রীমঙ্গল থেকে কালেঙ্গার জিপ ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা। বর্ষা মৌসুমে দুটি পথই বেশ কর্দমাক্ত থাকে বলে চলতে অসুবিধা হতে পারে।

কোথায় থাকবেন: 
কালেঙ্গায় থাকার জন্য আছে বন বিভাগের বিশ্রামাগার। সেখানে অবস্থান করতে হলে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে। তবে এই জায়গায় থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হল নিসর্গ তরফ হিল কটেজ। রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমের প্রধান প্রবেশ পথের পাশে অবস্থিত এ কটেজের তিনটি কক্ষে আট জন থাকা যায়। বড় দুটি কক্ষের ভাড়া এক হাজার টাকা আর ছোটটির ভাড়া ৭শ’ টাকা। প্রতিবেলা খাবারের খরচ জনপ্রতি ২০০ টাকা। আর সকালের নাস্তা ৬০ টাকা।

রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে ভ্রমণে অবশ্যই সঙ্গে গাইড নেওয়া উচিত।

এই বিভাগের আরো খবর

সরকারি অর্থে আকাশপথ ভ্রমণে বিমান বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি অর্থে আকাশ পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার...

সরকারি অর্থে আকাশপথ ভ্রমণে বিমান বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি অর্থে আকাশ পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার...

ছুটিতে অল্প খরচে নেপাল ভ্রমণ

ডেস্ক প্রতিবেদন: হিমালয়কন্যা বলা হয় নেপালকে। নেপাল শুধু পর্যটকদের জন্য স্বর্গসম নয়, সারা পৃথিবীর পর্বতারোহীদের রাজধানী বললেও বাড়িয়ে বলা...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is