ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-22

, ১১ মহাররম ১৪৪০

শেরপুরের পানিহাটা-তারানি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র

প্রকাশিত: ০৫:৪৩ , ১৩ মার্চ ২০১৮ আপডেট: ০৫:৪৩ , ১৩ মার্চ ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: শহরের কোলাহলপূর্ণ জীবন থেকে একটু অবসর কাটাতে যে কেউ চলে আসতে পারেন শেরপুরের পানিহাটা-তারানি পর্যটন স্পটে। জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের প্রকৃতির নৈসর্গিক শোভামন্ডিত পানিহাটা-তারানি পাহাড় এলাকায়। এখানকার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার সীমান্তঘেষা ঘন সবুজ শ্যামল বন, পাহাড়ি ভোগাই নদীর সাথে মিতালি আর বৃক্ষরাজি দেখে ভ্রমণ পিয়াসীদের মন উদ্বেলিত হয়। তারা কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে যান শহরের জীবনের কর্মক্লান্তি। প্রকৃতির নিখুঁত ভালবাসায় হারিয়ে যান তারা স্বপ্নের রাজ্যে।

পানিহাটা-তারানির সৌন্দর্য :
পানিহাটা-তারানি ভারত সীমানাঘেষা হওয়ায় চিরসবুজ বাংলা মায়ের অপরুপ দৃশ্য দেখার পাশাপাশি ভারতের সবুজ বনানী দর্শনার্থীদের অনেক বেশি মনের তৃপ্তি মেটায়। পানিহাটা পাদ্রি মিশনের পশ্চিম পাশে উঁচু পাহাড়ে দাঁড়িয়ে উত্তর দিকে চাইলে চোখে পড়ে নীলাভ-চিরসবুজ ভারতের পাহাড়ি তুরা জেলাকে আবছা আবরণের চাদরে জড়িয়ে নিয়েছে কুয়াশার মতো মেঘ কখনো বা কুয়াশা নিজেই। দূরের টিলাগুলো কেবলই লুকোচুরি খেলে এরই আড়ালে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ছোট ছোট পাহাড় গুলোকে ফাঁকি দিয়ে তুরার অববাহিকা থেকে সামনে সোজা এসে পশ্চিমে চলে গেছে পাহাড়ি নদী ভোগাই। একপাশে তার কাশবন আর অপর পাশে শত ফুট উঁচু দাঁড়িয়ে থাকা সবুজে জড়ানো পাহাড় ও নদী। নদীর টলটলে স্বচ্ছ পানির নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে নুড়ি পাথরগুলো। সামনের একশ গজ দূরে উত্তরে ভারত অংশে পিঁচঢালা আকাবাঁকা রাস্তা পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাহাড়ের বুকচিরে চলে গেছে। আর মাঝে মধ্যেই হুসহাস করে ছুটে চলছে মালবাহী ট্রাকগুলো।

চারদিকে ছোট ছোট অসংখ্য পাহাড়ের সারি সারি পাহাড়। পূর্ব দিকের কয়েকটি পাহাড়ের গা ঘেঁষে ভোগাই নদীতে এসে মিশেছে ছোট একটি পাহাড়ি ঝরণা। তার পাশেই খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় পানিহাটা পাদ্রি মিশন। এখানে আছে ছোট একটি চিকিৎসা কেন্দ্র, বিদ্যালয় আর ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের থাকার হোস্টেল। সেখানে শিশু-কিশোরদের কোলাহল। এসব মিলে প্রকৃতি প্রেমীদের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করে অপরূপা পানিহাটা-তারানি পাহাড়। অবশ্য এলাকার জনগণ এ পাহাড়টিকে পানিহাটা নামেই জানেন। কিন্তু এই সৌন্দর্যের ভাগটা শুধু পানিহাটাই নিতে পারেনি। এর একটা অংশে ভাগ বসিয়েছে পাশের তারানি গ্রামের পাহাড়। তাই দর্শনার্থীদের জন্য পানিহাটা-তারানি দুটো মিলেই গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র।

সবুজ চাদরে ঘেরা গারো পাহাড়ে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে চলে যান প্রকৃতির রাজ্যে। যারা শুনেছেন শেরপুরের বন্য হাতির তাণ্ডব তারা মিশনের পুর্বপাশে গারো উপজাতি পল্লির অধিবাসীদের কাছ থেকে শুনতে পারবেন বন্যহাতির ধ্বংসলীলার কথা। মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত গারোদের পরিবার প্রধান নারীরা। তাদের সহজ-সরল জীবন যেন ভ্রমণ পিয়াসীদের অবাক করে দেয়। তাদের জীবন সংগ্রাম কাছে থেকে দেখারও সুযোগ পাবেন এ গ্রামে। দারিদ্র আর বন্যহাতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা এসব গারো উপজাতিদের জীবনযাত্রা ও অকৃত্রিম আতিথিয়তা দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমণ পিয়াসীরা। বর্তমান কৃত্রিমতার যুগে প্রকৃতির নির্মিত সবুজ বনানী দেখে কর্মক্লান্তি ভুলে অনাবিল আনন্দে দিনের আলোতেই ভ্রমণ পিয়াসীরা ফিরে যান নিজ ঘরে।

কিভাবে যাবেন: 
জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. সোজা উত্তর দিকে নিজস্ব পরিবহন বা সিএনজি যোগে সড়ক পথে সরাসরি চলে আসুন নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকায়। ভোগাই নদীর ব্রিজের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে প্রায় ২-৩ কি.মি. যাওয়ার পর ঘন সবুজ পাহাড় মাড়িয়ে উত্তর দিকে পানিহাটা-তাড়ানি পাহাড়ে ঢুকে পড়–ন। বিনা টিকিটে উপভোগ করুন প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য। যদি নালিতাবাড়ী উপজেলা শহর থেকে আসতে চান তাহলে সড়ক পথে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে অবস্থিত এ স্থানটি। শহরের গড়কান্দা চৌরাস্তা মোড় থেকে সোজা উত্তরে প্রথমে নাকুগাঁও পরে পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত ভোগাই ব্রিজ পাড়ি দিতে হবে। এরপর সোজা পূর্ব দিকে প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার গেলে চায়না মোড়। এ মোড়ে এসেই আবারও গতিপথ বদলিয়ে যেতে হবে সোজা উত্তরে। এ রাস্তা ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই পানিহাটা-তারানির সবুজ শ্যামলময় পাহাড়ি এলাকা। সেখান থেকে ভিতরে ঢুকতেই দেখতে পাবেন সবুজের সমারোহ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা বা ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলেও যাওয়া যায় জেলা শহর থেকে আর নালিতাবাড়ী শহর থেকে মাত্র ৩৫-৪৫ মিনিটের ব্যবধানে এবং অল্প খরচের মধ্যেই চলে যাবেন আপনার গন্তব্যে। মোটরসাইকেলে জেলা শহর থেকে ভাড়া লাগবে আসা-যাওয়া প্রায় ৪০০ টাকা ।

কোথায় থাকবেন:
এখানে পিকনিক বা বেড়ানোর জন্য যে কারণেই আসুন না কেন বেলা শেষে জেলা বা উপজেলা সদরের হোটেলে রাত যাপন করতে হবে। তাছাড়া এখানে ভাল মানের কোন খাবার হোটেল নেই। তাই নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। 

এই বিভাগের আরো খবর

সরকারি অর্থে আকাশপথ ভ্রমণে বিমান বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি অর্থে আকাশ পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার...

সরকারি অর্থে আকাশপথ ভ্রমণে বিমান বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি অর্থে আকাশ পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার...

ছুটিতে অল্প খরচে নেপাল ভ্রমণ

ডেস্ক প্রতিবেদন: হিমালয়কন্যা বলা হয় নেপালকে। নেপাল শুধু পর্যটকদের জন্য স্বর্গসম নয়, সারা পৃথিবীর পর্বতারোহীদের রাজধানী বললেও বাড়িয়ে বলা...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is