ঢাকা, রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২ ফাল্গুন ১৪২৫

2019-02-24

, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪০

প্রকৃতি কন্যা জাফলং

প্রকাশিত: ০৬:৪০ , ১২ মার্চ ২০১৮ আপডেট: ০৬:৪০ , ১২ মার্চ ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: জাফলংকে বলা হয়ে থাকে মেঘ-পাহাড়ের দেশ। পাহাড়ের সাথে আকাশের মিতালি এবং সীমান্তের ওপারে প্রবাহিত ঝর্ণাধারা অনন্য এক আবহের সৃষ্টি করে রেখেছে জাফলংয়ে। পরিবেশবিদরা জাফলংয়ের নাম দিয়েছেন- ‘প্রকৃতি কন্যা’।

খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা নিকেতন। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে সাজানো পাথরের স্তুপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, নদীর স্বচ্ছ হিমেল জল, উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে পর্যটকদের কাছে জাফলং ভ্রমণের জন্য এক অনন্য স্থান। জাফলংয়ের কাছেই রয়েছে খাসিয়া পুঞ্জি ও কমলার বাগান।  

জাফলংকে শুধু ‘প্রকৃতির কন্যা’ নামেই অবিহিত করা হয় না। নানা নাম রয়েছে জাফলংয়ের। বিউটি স্পট, সৌন্দর্যের রানি- এসব অভিধা দেওয়া হয়েছে জাফলংয়ের। প্রতিদিন অগণিত ভ্রমণার্থীর পদভারে মুখরত হয়ে উঠে জাফলং। 

সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্বদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা উভয় মৌসুমেই যাতায়াত করা যায়। তবে একেক ঋতুতে জাফলংয়ের সৌন্দর্য একেক রকম। বর্ষায় জাফলংয়ের রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। 

ধুলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় শুভ্র মেঘেদের বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টিতে পাহাড়ি পথ হয়ে ওঠে বিপদসংকুল। শিহরণ জাগে মনে। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়। পিয়াইন নদীর স্ফটিক জলে নৌ-ভ্রমণের আনন্দই আলাদা। 

প্রাচীনকালে জাফলং খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জন বনভূমি ছিল। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর এই রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত ছিল। ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌপথে জাফলং আসতে শুরু করেন।  

পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় এখানে নতুন জনবসতি গড়ে উঠে। আশির দশকে সিলেটের সাথে জাফলংয়ের সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। 

জাফলং এখন দেশের সেরা পর্যটন স্পট। জাফলংয়ে খাওয়ার হোটেল থাকলেও থাকার ভালো হোটেল নেই। জাফলংয়ে সিলেট শহর থেকেই যাতায়াত করা সহজ। শহর থেকে মাইক্রোবাসে যাতায়াত করতে হলে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা ব্যয় হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

টানা তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত কক্সবাজার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: টানা তিন দিনের ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদভারে মুখরিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। জেলার অন্য বিনোদন...

বঙ্গবন্ধুর সমাধি পরিদর্শনে আসছেন দেশি-বিদেশি পর্যটক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি পরিদর্শনে প্রতিদিনই আসছেন দেশি-বিদেশি পর্যটক। ঘুরে ঘুরে...

ভ্রমনপিপাসুদের পছন্দের তালিকায় চট্টগ্রামের খেজুরতলা বীচ

ডেস্ক প্রতিবেদন: চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকত গুলোর মধ্যে খেজুরতলা বীচ ভ্রমনপিপাসুদের কাছে ক্রমেই আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত...

প্রকৃতির নিস্বর্গ শিলং

ডেস্ক প্রতিবেদন: শিলং উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৯০৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত শিলং-এ প্রচুর বৃষ্টিপাত...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is