ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-22

, ১১ মহাররম ১৪৪০

প্রকৃতির অনন্য নিদর্শন সোনাদিয়া দ্বীপ

প্রকাশিত: ০১:৪৫ , ০৮ মার্চ ২০১৮ আপডেট: ০১:৪৫ , ০৮ মার্চ ২০১৮

ডেস্ক প্রতিবেদন: সারা বছর জুড়েই বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনায় পৃথিবীর এই বৃহত্তম ব-দ্বীপ। কক্সবাজার জেলারই একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান হলো মহেশখালীর  সোনাদিয়া দ্বীপ। কক্সবাজার থেকে উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালী দ্বীপের দক্ষিণে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। জেলা শহর থেকে মহেশখালীর দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। মহেশখালী থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সাগরের বুকে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। মহেশখালী উপজেলার অন্তর্গত হোয়ানক ইউনিয়নে অবস্থিত সোনাদিয়া দ্বীপটির আয়তন নয় বর্গকিলোমিটার। ম্যানগ্রোভ ও উপকুলীয় বনের সমন্বয়ে গঠিত এই দ্বীপটি। সাগরের গাঢ় নীল জল, লাল কাঁকড়া, কেয়া বন, সামুদ্রিক পাখি সবমিলিয়ে এক ধরনের রোমাঞ্চিত পরিবেশ সবসময় এই দ্বীপে বিরাজ করে। 

মহেশখালী থেকে সোনাদিয়া দ্বীপ যাওয়ার পথের সবকিছুই মনে হবে শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো এক অকৃত্রিম ছবি চোখের সামনে ভাসছে। এ দৃশ্য যেনো কোনোদিন ভোলার নয়। এখানকার খালের পানি এতোটাই স্বচ্ছ ও টলটলে দেখে মনে হবে যেনো কোনো কাচের উপর দিয়ে নৌযানটি এগিয়ে চলেছে। যা দেখলে শত বছরের দুঃখ-কষ্ট এক নিমেষেই ভুলে যেতে বাধ্য। সমুদ্র থেকে সৃষ্টি হয়ে ভিতরের দিকে গিয়ে খালটি কয়েকটি শাখা প্রশাখায় ছড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে। খালের দু-পাশে সবুজ বন। এসব বনে রয়েছে কেওড়া, হারগোজা, উড়িঘাস এবং কালো ও সাদা বাইন বৃক্ষ। 

মূলত এই দ্বীপের বেশিরভাগ লোকই জেলে এবং সামান্য পরিমাণে কিছু লবণ চাষিও রয়েছে। অন্যভাবে বলা যায় জীবনযাত্রার মান খুব ভালো নয় বিধায় এখানে জনবসতি গড়ে উঠছে না। কেননা এখানে কোনো হাট-বাজার নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাজার-সদাইয়ের জন্য একমাত্র ভরসা ছোট ছোট মুদির দোকানগুলো। এই দ্বীপের যে বিষয়টি পর্যটকদের মনে সারাজীবন স্থান করে নেয়, সেটি হলো এখানকার চা। অত্যন্ত সাধারণ মানের হলেও এখানকার চায়ের স্বাদ কখনো ভুলবার নয়।

দ্বীপটির শেষপ্রান্ত পশ্চিম দিকে বেশ খোলামেলা। এই স্থানটিতে কোনো জনবসতি নেই। সবুজ ঘাসের কার্পেটে মোড়ানো খোলা মাঠ, নির্জনতা ও অফুরন্ত বাতাস সব মিলিয়ে মন প্রশান্তিতে ভরে যায়। এই দ্বীপের খোলা মাঠে বসলে মনে হবে যেনো অজানা-অচেনা কোনো দ্বীপে আপনি একা। আপনার পাশে কেউ বসে থাকলেও মনে হবে আপনি একা চারপাশে লাল কাঁকড়ার ছুটাছুটি। সবকিছুই মনে হবে সিনেমার দৃশ্যের মতো। অনেকের মতে সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে চেয়ে সোনাদ্বিয়া দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেক এগিয়ে। 
যাতায়াত ব্যবস্থা: 

ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর ও দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাস, ট্রেন বা অন্য কোনো বাহনে করে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার কস্তুরী ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে যেতে হবে মহেশখালী। মহেশখালী গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত পথটুকু যেতে হবে বেবিট্যাক্সিতে করে। মহেশখালীর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙার দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। সেখান থেকে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সোনাদ্বিয়া দ্বীপে যেতে হয়। ঘটিভাঙা নেমে খেয়ানৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই সোনাদিয়া। ভাটার সময় খালে খুব বেশি পানি থাকেনা। 
থাকা-খাওয়া: 

সোনাদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য কোনো আবাসিক হোটেল নেই। খাওয়ারও তেমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় লোকজনকে টাকা দিলে তারা খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। আর সোনাদিয়া দ্বীপে রাত্রি যাপনের ক্ষেত্রেও ভরসা সেই স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে রাতে থাকার কষ্টের কথা চিন্তা করে যারা সূর্যোদয়ের আগেই ফিরে আসবেন তারা সোনাদিয়া দ্বীপের আসল সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হবেন। এখানকার সূর্যাস্ত আরও অসাধারন। সন্ধ্যায় সাদা পালক দুলিয়ে সারি সারি বক উড়ে যায় আপন ঠিকানায়। নীল আকাশের কপালে কে যেন দেয় লাল টিপ। আস্তে আস্তে যখন সূর্য হারিয়ে যায় সাগরের বুকে তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ। এখানে রাত্রিযাপন হতে পারে আপনার জীবনের সেরা রাতের একটি।

এই বিভাগের আরো খবর

বান্দরবানে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত নিহত 

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আনোয়ার হোসেন প্রকাশ ওরফে বলি আনোয়ার নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে।...

বঙ্গোপসাগরে ১৫টি ট্রলার ডুবি: নিখোঁজ দুই শতাধিক 

বরগুনা প্রতিনিধি: বৈরী আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগরে প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে ১৫টি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত দুই শতাধিক জেলে।...

৬ ঘন্টা পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত হবার ৬ ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is