ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-12-14

, ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারের প্রাচীন ঐতিহ্য ও গর্বের জায়গা নষ্ট

প্রকাশিত: ১০:২২ , ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ আপডেট: ০২:২৩ , ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কক্সবাজার প্রতিনিধি: রোহিঙ্গা ইস্যুকে পূঁজি করেই কক্সবাজারের বহু প্রাচীন ঐতিহ্য ও চিরকালের গর্বের জায়গা নষ্ট হয়ে গেছে। সেটা হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গৌরব ও ক্ষুদ্র ধর্মীয় জনগোষ্ঠী বৌদ্ধদের বহু প্রাচীন উপাসনালয়। এসব পাল্টে দিচ্ছে দেশের প্রচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ কক্সবাজারের রামুকে। অন্যদিকে, পর্যটনের বিকাশসহ নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক পরিকল্পনা ভবিষ্যতে আরও বদলে দেবে গোটা কক্সবাজার জেলাকেই।

কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে হাজার বছরের পৌরণিক ঐতিহ্যের এলাকা হিসেবে রামুর পরিচয়। বাকখালি নদীর তীরে রামুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যও অপরূপ। ব্রিটিশদের আগে আরাকানের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল রামুকে ঘিরে। ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২ হাজার ৩১৯ বছরের ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে এখানে। গৌতম বুদ্ধের ১৩ ফুট দৈর্ঘ্যরে মূর্তি ইতিহাসের স্বাক্ষী। প্রাচীন কাঠের কারু কাজে তৈরি আকর্ষণীয় বৌদ্ধ উপাসনালয়গুলো ছিল ইতিহাসের স্বাক্ষী, পর্যটকদের আরেক আকর্ষণ। 

২০১২ সালে হঠাৎ রামুর ইতিহাসে ছন্দপতন ঘটে। ধর্মীয় উগ্রবাদীদের কালো থাবায় ছাই হয় শতশত এমনকি হাজার বছরের প্রচীন নিদর্শন। 

জ¦ালাও পোড়াওয়ে বিলীন হয়ে যায় কাঠের তৈরি ঐতিহ্যের উপসানালয় । নষ্ট হয়ে যায় স্বর্ণ, ব্রোঞ্জ, বিভিন্ন ধাতু ও পাথরের তৈরি গৌতম বুদ্ধের মূর্তি। 

শুধু বৌদ্ধদের নয় রামু এই জনপদের সভ্যতা বিকাশের নিদর্শন বহন করে আসছিল। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় নারিকেল বাগানও এখানে। ৩৪টি নারিকেল গাছ থেকে উন্নীত হয় দশ লাখে। ২০০ একরের এ বাগানটি ইতিহাস। হামলার ক্ষতি পুষানোর চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু রামুর পৌরণিক ঐতিহ্যের জায়গায় আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে। 

রামুতে শান্তিপ্রিয়, নির্বিরোধ ক্ষুদ্র বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিরাপদ বাসের প্রাচীন গৌরব ছিল। মুসলমান ও বৌদ্ধদের মিলেমিশে থাকার এই বিরল দৃষ্টান্ত এক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভীর ক্ষত তৈরি করেছে সমাজে।  

শুধু রামু নয়, গোটা কক্সবাজারকে নিয়ে আছে সরকারের মহাপরিকল্পনা, যা ক্রমাগত বদলে দেবে কক্সবাজেরকে। সমৃদ্ধও করবে নানাভাবে।

ইতিবাচক পরিবর্তনের আকাঙ্খা মানুষের চিরায়ত চাওয়া। তবে অনেক পরিবর্তন ব্যথিত করে, উদ্বিগ্ন করে। সেই বেদনার জায়গাটা যেন সৃষ্টি না হয় সেটা মাথায় রেখে সুন্দর সব পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন কক্সবাজারের অধিবাসীরাও।

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is