ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

2018-11-15

, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

সাবিনা ইয়াসমিনের কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশিত: ০২:০১ , ১১ নভেম্বর ২০১৭ আপডেট: ০২:০১ , ১১ নভেম্বর ২০১৭

মা

মা, তোমার মনে পড়ে?
সন্ধ্যার আগেই আমরা দরজার খিল তুলে দিতাম
আমরা চাঁদ আর জ্যোৎস্না ধোয়া
গন্ধরাজ দেখতাম জানালা দিয়ে
জানালার কপাট খুললে শিকের সাথে নেটও ছিলো
সেটুকু দিয়েই যা দেখা।

মা, তোমার মনে পড়ে?
রাত্রে সেই চালধোয়া জ্যোৎস্নায়
হাজার হাজার গন্ধরাজে পরী নামতো
রাক্ষস খোক্ষস আর দেউ- দানোও।

তোমার পরা ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে কেনা
কচুরিপানার ছাপ আঁকা শাড়িটা থেকে
সত্যিই জলজ গন্ধ উঠতো
ভাই ডানে, আমি বামে
তুমি মধ্যিখানে ঠাকুরমার ঝুলি
আমাদের জ্যন্ত রূপকথা
কার দিকে কতক্ষণ ফিরে থাকবে
সে নিয়েও হট্টগোল
মনে পড়ে, মা?

মাঝে মাঝে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামতো
মাঝে মাঝে কড়াৎ শব্দে বাজ পড়তো
মাঝে মাঝে শোঁ শোঁ হাওয়া বইতো মা
ঘরের ছাদ থেকে সুরকি খুলে পড়তো
কয়েকটা ফুটো দিয়ে বৃষ্টির জলও
প্রথম দিকে ছোট পাতিল
পরে বড়ো বড়ো বালতি পেতে রাখা হতো
আরও বেশি বৃষ্টি হলে যদি আস্ত ছাদটাই ভেঙে পড়ে
তুমি বৃষ্টি দেখতে না, ছাদের দিকে তাকিয়ে
দোয়া দরুদ পড়তে
মা, মনে পড়ে না?

মা, তোমার মনে পড়ে?
একদিন আমি ঘুমের ঘোরে কথা বলেছিলাম
পাকা কলা আর সন্দেশ খেতে চেয়েছিলাম
তুমি হেসেছিলে, সেই রিনিঝিনি শব্দে
আবার ঘুমিয়েছিলাম
সকালবেলা দই, সন্দেশ আর পাকা কলা দিয়েছিলে
সাথে আবারো হাসি
আমার চোখে এখনো
সেই অপরূপ হাসির ঘোর লেগে আছে
তোমার কি মনে পড়ে না, মা?

মা, এখন আমাদের সন্ধ্যাগুলি অনেক উজ্জ্বল
আমরা ভীড় করে সমুদ্রে সূর্যাস্ত দেখি
অ‍্যলবাট্রসের সাথে উড়ি
আমরা অ‍্যডভেঞ্চাচারে যাই গভীর জঙ্গলে
তাঁবুতে থাকি, বার -বি -কিউ এর উচ্ছ্বাসে মাতি
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলে 
আমাদের ছাদ ভেঙে পড়ার ভয় নেই
আমরা, হল্লা করি, ক্যাসিনোতে যাই, নাচি
আমরা আমাদের সন্তানদের হাতে
ঠাকুরমার ঝুলির পরিবর্তে 
প্লে- স্টেশন ফোর আর 
থ্রি- ডি সিডি কিনে দিই।

আমরা জীবনকে খুব সহজ করে নিয়েছি
তুমি খুব বোকা ছিলে মা
এত কষ্ট করে পাখি ছাড়া
আর কি কেউ ছানাপোনা বড় করে??

পাখি হওয়া যেতো

পাখি হওয়া যেতো
দুটো ডানা থাকলে
মেলে দেওয়া যেতো আকাশে
নীলের মিছিলে নীড় খোঁজা যেতো।

আবার নেমে আসা যেতো অরণ্যে
তৃণকুটো নিয়ে কোলাহল আলোয়
বাবুই বোনা যেতো
সুখ সুখ বাসা।

কিন্তু আমারতো পায়ের নিচে মাটি
সে পা বৃক্ষ; ক্রমশ শেকড় ছড়ায়
একদিন বৃক্ষও মরে যায়
ঝরে পড়ে তার সোনালি পাতাও।

আমারও সুখ সুখ বাসা
আমি বুনিনি, কারিগর জাদু জানে
ইন্টেরিয়র জানে, হট্টগোল ছাড়াই নির্মাণ শেষ
সেখানেই শেকড় ছড়ানো, পাতা ঝরানো।

ইন্টেরিয়রে আলো আসে
পাখির মতো আকাশ নেই।

সন্ধ্যা

একটা পুরো আকাশও
ধরে রাখতে পারছে না 
এমন তীব্র আলোর ভার
যা ছিলো তার সারাটা দিনের প্রাপ্তি।
বিকেলটা তাই গড়িয়ে নামতে লাগলো
আলোর হল্লা ছেড়ে
মৌন অন্ধকারে।
আমিও চুপি চুপি তার সঙ্গী হতে চাইলাম।
পাছে কেউ দেখে ফেলে
কেউ যদি সাথে যেতে চায়
কোন প্রাপ্তি সুখের সকাল
কোন আনন্দ কুহক নদী
অথবা পুরোনো শেকড়
তাই খুব আলগোছে ঘাড় ফেরালাম।
নাহ্। কেউ কোথাও নেই।
এমন যাত্রায় কেউ বোধ হয় কারো
সহযাত্রী হতে চায় না।
তবে আর ভয় কি!
চিৎকার করে বললাম
দাঁড়াও
আমিও যেতে চাই
সঙ্গে নাও।।

কথা রেখো

কথা রেখো
শুক্লা তিথিতে ফিরো
ততদিনে রাহুও যদি ডাকে
বলে যেও আমাকে
বলে যেও গ্রহণে যাচ্ছো।
সেই গ্রহণের রাতেও 
আমি কমলার ক্ষেতে বসে
পাথরের থালায় জল ঢেলে
তোমাকে দেখবো।
আর তোমাকে দেখবে
তোমার জন্য বেঁধে রাখা
তেজি গোলাপের তোড়াও।
এর পরও যদি না ফেরো
পূর্ণশশীকলায়
কমলা ক্ষেতের আগুন
আর গোলাপের দাবি ছেড়ে
চলে যাবো অগস্ত্যযাত্রায়
অথবা মহাপ্রয়াণে।

এই বিভাগের আরো খবর

মার্কিন লেখক স্ট্যান লি আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: স্পাইডারম্যান, ইনক্রেডিবল হাল্কের মত কমিক চরিত্রের স্রষ্টা মার্কিন লেখক ও মার্ভেল কমিক্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট স্ট্যান লি আর...

হুমায়ূন আহমেদের ৭০ তম জন্মদিন আজ

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ।  ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে একটি নতুন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is