ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-22

, ১১ মহাররম ১৪৪০

ঘুরে আসুন অপরূপ সুন্দর দেশ মালয়েশিয়া

প্রকাশিত: ১১:০৭ , ০৭ নভেম্বর ২০১৭ আপডেট: ১১:০৭ , ০৭ নভেম্বর ২০১৭

ডেস্ক প্রতিবেদন: বাংলাদেশিদের বিদেশ ভ্রমণের আগে যে কয়টা দেশের নাম উঠে আসে সেগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেন। যারা মালয়েশিয়া ভ্রমণের প্ল্যান করছেন তাদের ভ্রমণ যাতে সহজ এবং সাশ্রয়ী হয় সেদিক বিবেচনা করেই আজকের এ টিপস।

মালয়েশিয়া ভ্রমণ করতে হলে প্রথমে যা করতে হবে তা হচ্ছে ভিসা। মালয়েশিয়ার ভিসা পাওয়া অনেক দেশের তুলনায় সহজ। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো প্রথমে ভিসার জন্য যেসব তথ্য ও কাগজপত্র দেওয়া প্রয়োজন তা দিতে হবে। এসবের মধ্যে আপনার গত তিন মাসের ব্যাংক হিসেবে বিবরণী (স্টুডেন্ট হলে ব্যাংকে ৫০-৬০ হাজার টাকা রেখে একটা স্টেটমেন্ট নিয়ে নিন)।

যাওয়া-আসার বিমানের টিকেট সংগ্রহ করতে হবে। স্বল্প খরচে মালয়েশিয়া ভ্রমণ করতে হলে কোনো কোনো এয়াললাইন্সের রিটার্ন টিকিট ১৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, অনেক সময় প্রমোশনাল প্রাইস পেলে ৬-৮ হাজার টাকায়ও পেতে পারেন। একটু খোঁজ নিলেই কোন এয়ারলাইন্সের টিকিট মূল্য কতো জেনে যাবেন। বিমানের ভেতর বিনে পয়সায় কোনো খাবার পাবেন না, যেটা পাবেন সেটা খেতে হলে অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। টাকা বাঁচাতে চাইলে গুড়-মুড়ি, আর পানীয় নিয়ে উঠতে পারেন।

আপনার পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এয়ার এশিয়া, সিংগাপুর এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ার, রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ, বাংলাদেশ বিমান ও মালয়েশিয়ান এয়ারের যে কোনটির টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর পৌঁছতে সময় লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টা। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সময়ের পার্থক্য দুই ঘণ্টা।

পাসপোর্ট এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি। এসব এক করে ভিসা ফি ৩০০ টাকাসহ গুলশানস্থ মালয়েশিয়ান হাই কমিশনে সাবমিট করুন। সবকিছু ঠিক-ঠাক থাকলে ৩ (তিন কার্যকরী দিবস) দিন পর গিয়ে ভিসা নিয়ে আসুন।

মালয়েশিয়ার সব হোটেলেই চেক ইন করার সময় দুপুর ১২টা। তাই সকালে কুয়ালালামপুর পৌঁছে হোটেল খুঁজতে গেলে পড়তে পারেন ঝামেলায়। তাই আগেই হোটেল বুকিং করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অসংখ্য হোটেলের মধ্যে টাইমস স্কয়ার, পার্ক রয়্যাল, ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল, রয়্যাল বেনতান ইত্যাদি পর্যটকদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়। টাইমস স্কয়ার ও পার্ক রয়্যালে সকালের বুফে নাস্তাসহ দিনে জনপ্রতি খরচ পড়বে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

আর ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল ও রয়্যাল বেনতানে ছয় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যেই থাকতে পারবেন। পরিবার নিয়ে গেলে নিতে পারেন টাইমস স্কয়ারের স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টগুলো। রান্না-বান্নাসহ সকল ঘরোয়া পরিবেশই পাওয়া যাবে এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে। তবে প্রতিদিন গুনতে হবে ১৬ হাজার  থেকে ২০ হাজার টাকা।

এছাড়া ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল ও রয়্যাল বেনতানে পাবেন সর্বোচ্চ চারজনের প্যাকেজ, খরচ ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে এই দুই প্যাকেজে নেই সকালের নাস্তার ব্যবস্থা।

মালয়েশিয়ায় আছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে একটি হল কুয়ালামপুরের কাছেই পাহাঙ্গে অবস্থিত গেনটিন হিল রিসোর্ট। ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য পরিচিত তিতিওয়াঙ্গসা পাহাড়ি অঞ্চলের এই রিসোর্টে পাবেন থিম পার্ক, কেবল কার, ক্যাসিনো ইত্যাদি।
কুয়ালালামপুরের মধ্যেই আছে টুইন টাওয়ার নামে খ্যাত প্যাট্রোনাস টাওয়ার। ১৯৯৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু টুইন টাওয়ার। দুই টাওয়ারের মাঝের ব্রিজকে বলা হয় স্কাই ব্র্রিজ। ৫০ রিঙ্গিত বা ১২০০ টাকার বিনিময়ে দর্শনার্থীরা উঠতে পারবেন এই স্কাইব্রিজে।

মালয়েশিয়া গিয়ে লাঙ্কাবি না গেলে হয়তো সমস্ত খরচই বৃথা। কুয়ালালামপুর থেকে ৪১৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকত অঞ্চল আন্দামান সমুদ্রের ১০৪টি দ্বীপের সমষ্টি। কি নেই এখানে,  কেবল কার, ঝরনা, সমুদ্রের নিচ দিয়ে রাস্তা, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আরও কত কি।

একটু ভিন্ন স্বাদের জন্য একটি নৌকা ভাড়া করে চলে যেতে পারেন ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের ভেতর।  সেখানেও আছে বাদুরের গুহা, ঈগলের গুহা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান।

কুয়ালালামপুর থেকে ৩৫৫ কিলোমিটার দূরেই আছে আরেকটি পর্যটন এলাকা পেনাঙ্গ। এখানকার মূল আকর্ষণ কেবল ট্রেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আট রিঙ্গিত আর ছোট ও বৃদ্ধদের জন্য চার রিঙ্গিতের বিনিময়ে এই ট্রেনে চড়ে যেতে পারবেন পেনাঙ্গ পর্বতে।
আর মালয়েশিয়ার ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে চলে যেতে পারেন মালাক্কা সিটি। কেনাকাটার জন্য যেতে পারেন প্যাভিলিয়ন, টাইমস স্কয়ার, বিবি প্লাজা, সানওয়ে পিরামিড মার্কেট ইত্যাদি শপিং মলগুলোতে। পৃথিবীর সবগুলো ব্র্যান্ডের পণ্যই পাবেন এই মার্কেটগুলোয়। এছাড়া মালয়েশিয়ার স্থানীয় পণ্যগুলোও গুণগত মান সম্পন্ন, দামও ক্রয়সীমার মধ্যেই।

ইলেক্ট্রনিকস পণ্য কিনতে চাইলে অবশ্যই যেতে হবে ল-ইয়েট প্লাজা। খাওয়া-দাওয়া সবধরনের ফাস্টফুড চেইনের স্বাদ নিতে পারবেন মালয়েশিয়ায়। কমতি নেই স্থানীয় খাবারের। সকালের নাস্তায় দুই রিঙ্গিতের বিনিময়ে খেতে পারেন চানারুটি। দুপরের খাবারে খেতে পারেন মিক্সড ফ্রাইড রাইস নাসিগরেঙ্গ, খরচ পড়বে সাত থেকে আট রিঙ্গিত। এছাড়াও আছে পাকিস্তানি ও বাঙালি রেস্তোরা। পাবেন কাচ্চি বিরিয়ানি, তন্দুরি চিকেন, কাবাব ইত্যাদি। ২০ রিঙ্গিত বা ৫০০ টাকাতেই ভরপেট খেতে পারবেন এই রেস্তোরাগুলোয়। ডেজার্ট হিসেবে বেছে নিতে পারেন সিক্রেট রেসিপির কেক। তাহলে আর দেরি কেন ঘুরে আসুন অপরূপ সুন্দর দেশ মালয়েশিয়া।

এই বিভাগের আরো খবর

সরকারি অর্থে আকাশপথ ভ্রমণে বিমান বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি অর্থে আকাশ পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার...

সরকারি অর্থে আকাশপথ ভ্রমণে বিমান বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি অর্থে আকাশ পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বুধবার...

ছুটিতে অল্প খরচে নেপাল ভ্রমণ

ডেস্ক প্রতিবেদন: হিমালয়কন্যা বলা হয় নেপালকে। নেপাল শুধু পর্যটকদের জন্য স্বর্গসম নয়, সারা পৃথিবীর পর্বতারোহীদের রাজধানী বললেও বাড়িয়ে বলা...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is