ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-22

, ১১ মহাররম ১৪৪০

সৃজনশীল গবেষণামূলক বই প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি

প্রকাশিত: ১০:৪৪ , ২৫ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ১০:৪৪ , ২৫ অক্টোবর ২০১৭

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা একাডেমির গবেষণা বিভাগ থেকে সৃজনশীল প্রকাশনার কার্যক্রম হিসেবে গত তিন অর্থবছরে বিভিন্ন বিষয়ে দেড় শতাধিক গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে।

কার্যক্রমের অধীনে প্রকাশিত এই সব বইয়ের বিষয়ের মধ্যে রয়েছে, ফোকলোর, ভাষা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মানবতা বিরোধী অপরাধ বিচার আন্দোলন, অভিধান, লোক সংগীত, সাহিত্য বিষয়ক রচনাবলী, শহীদ মিনার, ছোটদের পার্লামেন্ট, সাময়িকপত্র, চা শিল্প ও সাহিত্য, খ্যাতিমানদের রচনাবলী, অমর একুশে স্থাপত্য ইতিহাস, রাজনীতি বিষয়ক, মুক্তিযুদ্ধ, মুসলিম লিপিকলা। একাডেমির সৃজনশীল প্রকাশনার অন্যতম একটি খাত হচ্ছে ‘ফোকলোর সংগ্রহশালা’। এই কার্যক্রমের আওতায় এ সিরিজে নানা বিষয়ে ২৫টি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। এই সিরিজ গ্রন্থগুলোর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন ফোকলোর বিষারদ ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জমান খান।

এ ছাড়াও কার্যক্রমের আওতায় অন্যান্য বিষয়ে উল্লেখযোগ্য যে সব গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়, সেগুলো হচ্ছে মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুমের ‘মানব মুুকুট, কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ‘পুঠিয়ার রাজবংশ, বাংলার রাজনীতি ও জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক আহম আলীর ‘মুসলিম লিপিকলা : উৎপত্তি ও বিকাশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কারাগারের রোজনামচা (তিনটি সংস্করন), হায়াৎ মামুদের ‘কালের পুতুল : বুদ্ধদেব বসু, ফারজানা সিদ্দিকার ‘নির্বাচিত কবিতা: সুফিয়া কামাল, ডক্টর নেহাল করিমের ‘আহমদ শরীফকে লেখা নির্বাচিত পত্রাবলী, সনৎকুমার সাহার ‘কালান্তর রবীন্দ্রনাথ, রশীদ হায়দারের স্মৃতি‘৭১, সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদের ‘সন্তোষ গুপ্ত, মুনতাসীর মামুনের ‘হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ : কাজী আবদুল ওদুদ’, আনিসুজ্জামান’এর ‘প্রথম শহীদ মিনার ও পিয়ারু সর্দার, শামসুজ্জামান খানের ‘বাংলাদেশের লোকসংগীত সমীক্ষা, পূর্বববাংলা সাময়িকপত্র: প্রগতিশীল ধারা, আবুল হাসনাতের ‘শামুসর রাহমান রচনাবলী, হারুন-অর রশীদের ‘আমাদের বাঁচার দাবি : ৬ দফার ৫০ বছর, ইকবাল হোসেন অনূদিত ‘বাংলায় আফগান শাসন, শামসুজ্জমান খান সম্পদিত ‘বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ইতিহাস।

বাংলা একাডেমির গবেষনা বিভাগ থেকে এই প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একাডেমি ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য গবেষণা প্রকাশনা’ শীর্ষক কর্মসূচির অধীনে এই বইগুলি প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অর্থপ্রাপ্তির প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে এই প্রকল্পের অধীনে বই প্রকাশের কাজ শুরু হয়। কার্যক্রমের আওতায় ১৮০টি গবেষনামূলক বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত হয়। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫২টি গবেষানমূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৮টি,২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭০টি, ২০১৬-১৭ (জুলাই পর্যন্ত) ৫৫টি বই প্রকাশিত হয়। সূত্র জানায়, এই কর্মসূচিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কার্যক্রমের প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সন্তোষ প্রকোশ করা হয় এবং একাডেমির এই গবেষণামূলক  গ্রন্থ প্রকাশের অব্যাহত থাকবে বলে একাডেমির সূত্র জানায়।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান এই কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, বাংলা একাডেমির প্রকাশনা সমৃদ্ধ হয়েছে গবেষণার মাধ্যমে। এ পর্যন্ত কয়েকশত বই এ বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শক্রমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গবেষনার কাজ বৃদ্ধির জন্য বাজেট বরাদ্দ দেন। ফলে আমরা এই কাজটি শুরু করেছি। কার্যক্রমটির অধীনে প্রায় দুইশত বই প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি সৃজনশীল গবেষণায় দেশে বাংলা একাডেমিই সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কার্যক্রম বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলা একাডেমির পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, বাংলা একাডেমির গবেষণা বিভাগ স্থাপিত হয় ১৯৭৬ সালে। সেই থেকে একাডেমি কয়েকশ’ গবেষণামূলক বই প্রকাশ করেছে। এই প্রকাশনাগুলো বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইহিতাস, স্থাপত্য, শিল্প, রাজনীতির ক্ষেত্রে অসামান্য প্রকাশনা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বইগুলোর বিক্রিও হচ্ছে বিপুল পরিমাণে।

এই বিভাগের আরো খবর

ডাকসু নির্বাচন: আদালত অবমাননার মামলা কার্যতালিকা থেকে বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের...

ডাকসু নির্বাচন: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ঢাবি উপাচার্যের লিভ টু আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামী ছয় মাসের মধ্যে অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ নিতে হাইকোর্টের রায়ের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is