ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-17

, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ঘুরে আসুন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট

প্রকাশিত: ১০:০৯ , ২৫ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ১০:০৯ , ২৫ অক্টোবর ২০১৭


ডেস্ক প্রতিবেদন: বাংলাদেশের অ্যামাজন, নাম তার রাতারগুল। ইংরেজিতে বললে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট।
পৃথিবীর মাত্র ২২টি মিঠাপানির জলাবনের মধ্যে একটা বাংলাদেশের রাতারগুল। এই তথ্যটা জানার পর তো রাতারগুল ঘুরে আসাটা একরকম বাধ্যতামূলক বলাই যায়।
সিলেট থেকে রাতারগুলের দূরত্ব প্রয়ায় ২৬ কিলোমিটার। সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে এই জলাবনের অবস্থান।
বনবিভাগের তথ্যমতে, এই বনের আয়তন ৩৩২৫.৬১ একর। এর মধ্যে ৫০৪ একর বন ১৯৭৩ সালে বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। বিশাল এ বনে রয়েছে প্রায় ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ। মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও এখানে বাণিজ্যিকভাবে মুর্তা লাগিয়েছে বন বিভাগ। মুর্তা দিয়ে শীতল পাটি বানানো হয়।
রাতারগুল গ্রামের পাশেই এই সোয়াম্প ফরেস্ট, তাই নাম হয়েছে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেষ্ট। এখানে কিছু যায়গায় ঘন বড় গাছের কারণে আকাশা দেখা যায় না। গাছের গোড়া পানিতে ডুবন্ত। এমন স্থানে সবুজ পাতা ভেদ করে পানিতে সবুজাভ আলো পরে। দৃশ্যটা লিখে বর্ণনা করা মত না একেবারেই।
রাতারগুল ভ্রমণ সংযুক্তি: নৌকা ভাড়া করার সময় আপনি চাইলে ২০-২৫ টাকায় ছাতা এবং ৫০ টাকায় লাইফজ্যাকেট ভাড়া নিতে পারেন।
যাতায়াত ব্যবস্থা
কদমতলী থেকে জাফলং এর বাসে উঠে যেতে হবে হরিপুর। ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা। হরিপুর থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে করে যেতে হবে ৮ কিলোমিটার দূরের ফতেহপুর বাজারে, ভাড়া হবে এবার জনপ্রতি ১৫ টাকা। সেখান থেকে চৌরঙ্গী ঘাটের অটোরিকশা বা সিএনজি পাওয়া যাবে। দামাদামি করে ১৭০ টাকায় দফারফা করে নেয় ভাল হবে।
চৌরঙ্গী ঘাট থেকে মাঝি কাম ট্যুর গাইডের  সাথে দামাদামি করে ৪০০-৮০০ টাকায় ডিঙি নৌকা ভাড়া করে ঢুকে পরুন রাতারগুলের ভিতরে। এমন এক সৌন্দর্যের জগতে যা না দেখলে কল্পনা করা যায় না, মুখের ভাষায় বর্ণনা করা যায় না, একবার গেলে ফিরে আসতে মন চায়বে না। পুরো এলাকা জুড়ে ঘন জঙ্গল, অথচ পুরোটাই যেন পানিতে ভাসমান। অচেনা অজানা নানান প্রজাতির গাছগুলো যেন পানির নিচ থেকে মাথা উঁচু করে আমাকেই দেখছেন। শহরের যান্ত্রিকতা থেকে অসীম দুরত্বে শুধু  বৈঠার ছলাৎ-ছলাৎ শব্দ আর মাঝেমধ্যে বন্য প্রাণীর চিৎকারে হঠাৎ চমকে উঠা! এই বনে বানর, মেছোবাঘ, শিয়াল আর কাঠবিড়ালি দেখা যায় প্রায়ই। বিভিন্ন প্রজাতির সাপ আর জোঁকের ভয়ে পানিতে হাত দেবেন না।
ঘন্টাদুয়েকের মধ্যেই পুরো বনটা মনের মাধুরী মিশিয়ে চষে ফেলুন। এ যেনো এক স্বপ্নদৃশ্য। বনের মাঝে একটা ওয়াচ টাওয়ার আছে, জধঃধৎমঁষ ডধঃপয ঞড়বিৎ এই ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে পুরো বনটা এক পলকে দেখে নেয়া যায়। আর অনুভব করা যায়, আমাদের এই ছোট্ট দেশটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কতটা স্বয়ংসম্পূর্ণ।
রাতারগুল বনে সাপের মধ্যে গুইসাপ, জলঢোঁড়া ছাড়াও রয়েছে গোখরাসহ বিষাক্ত অনেক প্রজাতি। বর্ষায় বনের পানি বেড়ে গেলে এসব সাপ গাছের ওপর উঠে পরে।
সতর্কতা: জোঁক আছে পানিতে। সুতরাং, পানিতে নামার ব্যাপারে সাবধান।
টেংরা, খলিশা, রিঠা, পাবদা, আইড়, কালবাউস, রুইসহ আরো অনেক জাতের মাছ আছে এখানকার পানিতে। সাদা বক, কানি বক, মাছরাঙা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঘুঘু, চিল ও বাজসহ নানা জাতের পাখি দেখা গাছের ডালে। শীতে মাঝেমধ্যে আসে বিশালকায় সব শকুন আর বিভিন্ন জাতের অতিথি পাখি।
সবশেষে একটি অনুরোধ, দয়া করে পলিথিন, বোতল, চিপস কিংবা বিস্কুটের প্যাকেট সহ কোনো প্রকার আবর্জনা পানিতে ফেলবেন না। মনে রাখবেন, রাতারগুল আমাদের সম্পদ। আর আমাদের সম্পদ বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বটাও আমাদেরই।

এই বিভাগের আরো খবর

ঘুরে আসুন মেঘের রাজ্য নীলগিরি

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রকৃতির এক অনন্য দান বান্দরবানের নীলগিরি। যেখানে গেলে দেখতে পারবেন মেঘ আর পাহাড়ের মিতালী। যেখানে মেঘেরা আপন থেকে ছুঁয়ে...

দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৫ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। সকাল সোয়া ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is