ঢাকা, বুধবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৯, ৩ মাঘ ১৪২৫

2019-01-17

, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

ঘুরে আসুন শালবন বৌদ্ধ বিহার

প্রকাশিত: ০৪:০৪ , ২৫ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ০৪:০৪ , ২৫ অক্টোবর ২০১৭

ডেস্ক প্রতিবেদন: বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কুমিল্লার বৌদ্ধ বিহার অন্যতম। শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যেও একটি।

কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে বার্ডের কাছে লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় বিহারটির অবস্থান। বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল-গজারির ঘণ বন ছিল বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার। বিহারটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো হলেও আকারে বেশ ছোট।

ইতিহাস

১৮৭৫ সালের শেষ দিকে বর্তমান কোটবাড়ি এলাকায় সড়ক তৈরির সময় একটি ইমারতের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হয়ে পড়ে। সে সময় আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষকে একটি দুর্গ বলে অনুমান করা হয়েছিল। ১৯১৭ সালে ঢাকা জাদুঘরের অধ্যক্ষ নলিনী কান্ত ভট্টাশালী সে এলাকায় যান। ওই এলাকায় অনুসন্ধান পরিচালনাকালে ধ্বংসাবশেষটিকে হরিকেল দেবের তাম্রশাসনের (খৃষ্টীয় তের শতক) দুর্গ ও বিহার পরিবেষ্টিত পট্টিকেরা নগর বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। যদিও অপর প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতানুযায়ী এটি ছিল জয়কর্মান্ত বসাক নামক একটি প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ।

তবে অধিক সমর্থিত একাধিক মত অনুযায়ী খ্রীষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রী ভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। শালবন বিহারের ছয়টি নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়। খ্রীষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়অ এসময়ই বিহারটির সার্বিক সংস্কার হয় বলে অনুমান করা হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের নির্মাণকাজ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নবম-দশম শতাব্দীতে।

যা দেখবেন

আকারে চৌকো শালবন বিহারের প্রতিটি বাহু ১৬৭.৭ মিটার দীর্ঘ। বিহারের চার দিকের দেয়াল পাঁচ মিটার পুরু। কক্ষগুলো বিহারের চার দিকের বেষ্টনী দেয়াল পিঠ করে নির্মিত। বিহারে ঢোকা বা বের হওয়ার মাত্র একটাই পথ ছিল। এ পথ বা দরজাটি উত্তর ব্লকের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে।

প্রতিটি কক্ষের মাঝে ১.৫ মিটার চওড়া দেয়াল রয়েছে। বিহার অঙ্গনের ঠিক মাঝে ছিল কেন্দ্রীয় মন্দির। বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। ধারণা করা হয় যে এখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন এবং ধর্মচর্চা করতেন। কক্ষের সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া টানা বারান্দা ও তার শেষ প্রান্তে অনুচ্চ দেয়াল। প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে তিনটি করে কুলুঙ্গি রয়েছে, যেখানে অতীতে প্রতিমা বা তেলের প্রদীপ ইত্যাদি রাখা হতো। অন্যদিকে চার দিকের দেয়াল ও সামনে চারটি বিশাল গোলাকার স্তম্ভের ওপর নির্মিত হলঘরটি ভিক্ষুদের খাবার ঘর ছিল বলে ধারণা করা হয়। হলঘরের মাপ ১০ মিটার বাই ২০ মিটার। হলঘরের চার দিকে ইটের চওড়া রাস্তা রয়েছে।

নানা সময়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রোঞ্জ ও মাটির মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে।

কীভাবে যাবেন ?

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সরাসরি কুমিল্লা যাওয়ার বাস পাবেন। কুমিল্লা পৌঁছে চলে যান টমছম ব্রীজ বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে লোকালে অথবা রির্জাভে সিএনজি নিয়ে কোটবাড়ি যেতে হবে। কোটবাড়ি থেকে অটোরিকশায় যেতে হবে শালবন বৌদ্ধ বিহার।

 

এই বিভাগের আরো খবর

তারাপুর চা বাগানে একদিন

ডেস্ক প্রতিবেদন: যেদিকে চোখ যায় কেবল সবুজ আর সবুজ। চা বাগান আর ছায়া বৃক্ষের সবুজে নয়ন জুড়িয়ে যায়, পাওয়া যায় মানসিক প্রশান্তিও। এবার শীতে...

শাপলার সাগর

ডেস্ক প্রতিবেদন: এ যেন ছোটখাটো এক লাল সাগর। উত্তরে সবুজ খাসিয়া-জয়ন্তিয়া পাহাড় আর ঢালুতে ছোট্ট খাসিয়াপল্লী। একটু দক্ষিণে লাল-সবুজের অপূর্ব...

সিলেট ভ্রমনে গিয়ে ভুলবেন না টিলাগড় ইকোপার্ক যেতে

ডেস্ক প্রতিবেদন: ব্যস্ত নগরজীবনে কাজকর্মের চাপে যখন পিষ্ট হয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই ঢাকার বাইরে কোনো জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারেন। একঘেয়েমি দূর...

কক্সবাজারে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের

কক্সবাজার প্রতিনিধি: বছরের শুরুতেই বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সে ভিড় বেড়ে যায়...

সরিষার মাতাল ঘ্রাণে......একদিন

ডেস্ক প্রতিবেদন: মাঠের পর মাঠ সরিষা ফুল এখন গ্রাম-বাংলার চির পরিচিত দৃশ্য। এ দৃশ্যকে আলিঙ্গন করে নেয়ার জন্য শীত মৌসুমের চেয়ে ভালো সময় আর...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is