ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-18

, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ইতিহাসের স্বাক্ষী রোজ গার্ডেন প্যালেস!

প্রকাশিত: ০৩:০০ , ২১ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ০৩:০০ , ২১ অক্টোবর ২০১৭

ডেস্ক প্রতিবেদন: ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পলাশীর আম্রকাননে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। এর ১৯২ বছর পর একই দিনে নতুন সকাল উদ্ভাসিত হয়েছিল পুরানো ঢাকার রোজ গার্ডেনে। ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধু তখন জেলে। রাজনীতির যুগসন্ধিক্ষণে এই রোজ গার্ডেনে জন্ম হয় মানুষের মুক্তি আর অধিকার আদায়ের সংগঠন আওয়ামী লীগ।

শ্বেত পাথরের মূর্তি, কৃত্রিম ফোয়ারা, ঝর্ণা, শান বাঁধানো পুকুর ও অনন্য স্থাপত্য শৈলিতে নির্মিত ভাস্কর্য দিয়ে ঘেরা রাজকীয় বাগানবাড়ি ‘রোজ গার্ডেন’। যার নাম চিরদিনের মত যুক্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের সাথে। কালের পরিক্রমায় রোজ গার্ডেন এখন রশিদ মঞ্জিল নামে পরিচিত।

ইতিহাস

বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন প্রখ্যাত নাট্যকার। ১৯ শতকের শুর“র দিকে বলধায় বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন। যা পরে বলধা গার্ডেন নামে পরিচিতি পায়। উচ্চবিত্তদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে এই বাগান বাড়ি, যেখানে নিয়মিতই বসতো গানের আসর।

বিনা আমন্ত্রণে হৃষিকেশ দাস নামে এক ধনী ব্যবসায়ী বলধার অনুষ্ঠানে যান। নিম্ন বর্ণের হওয়ায় সেখানে তাকে অপমান করা হয়। এর প্রতিশোধ নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হৃষিকেশ দাস ১৩ নম্বর কে.এ. দাস লেনে একই রকম বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন। নাম রাখেন রোজ গার্ডেন।

১৯৩০ সালের দিকে রোজ গার্ডেনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে দুর্লভ সব গোলাপ গাছে সুশোভিত করা হয় এর উদ্যান। আর গোলাপ বাগান সমৃদ্ধ বাড়ির কারণেই প্রসাদের নাম রাখা হয় ‘রোজ গার্ডেন’।

এদিকে, ১৯৩৬ সালে ঋণের দায়ে হৃষিকেশ দাস এই বাগানবাড়ি বিক্রি করে দেন ব্যবসায়ী খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে। তিনি নতুন করে ভবনের নামকরণ করেন ‘রশিদ মঞ্জিল’।

পরবর্তীতে খান বাহাদুরের বড় ছেলে কাজী মোহাম্মদ বশির (হুমায়ুন) এর রক্ষণাবেক্ষণ করেন। ১৯৭০ সালের দিকে বাগানবাড়িটি ‘বেঙ্গল স্টুডিও’কে লীজ দেন প্রাসাদটির বর্তমান মালিক ব্যারিস্টার কাজী আব্দুর রকিব। নব্বই দশকে বহু নাটকের শুটিং হয় রোজ গার্ডেন প্যালেস। ১৯৮৯ সালে ‘রোজ গার্ডেন’কে সংরক্ষিত ভবন ঘোষণা করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। ১৯৯৩ সালে আবারো বাড়ির অধিকার ফিরে পান কাজী রকিব।

তবে, আজ আর সেই জৌলুস নেই, শান বাধানো ঘাটের পুকুর আছে ঠিকই, আগের মতো পানি টলমল করেনা, ধংস হয়ে গেছে গোলাপ বাগান। অনাদর ও অবহেলা জীর্ন দাঁড়িয়ে আছে রোজ গার্ডেন প্যালেস।

স্থাপত্যশৈলী

রোজ গার্ডেনের পশ্চিম ও উত্তর দিকের প্রচীরের মধ্যবর্তী অংশে দুটি মূল ফটক আছে। পশ্চিম দিকের ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে প্রথমেই দেখা মিলবে বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণের। এখানে মঞ্চের ওপর দন্ডায়মান কয়েকটি নারী ভাস্কর্য। পূর্বাংশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান আয়তকার পুকুরের। এর পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মাঝামাঝি বাঁধানো পাকা ঘাট আছে। এর পূর্ব দিকেই অবস্থান রশিদ মঞ্জিলের। ভবনে প্রবেশপথের সামনের চত্বরে রয়েছে ইট ও সিমেন্টের ফোয়ারা।

ভবনের নীচতলায় প্রতিটি কোঠায় আছে পাশাপাশি তিনটি খিলান দরজা। আর ওপরের তলায় প্রতিটি খিলানে একটি করে পোডিয়াম আছে। টিমপেনামগুলো লতাপাতার নকশা এবং রঙিন কাঁচে শোভিত। এর বাইরের দিকে রয়েছে উপবৃত্তাকার বেলকনি। দুপাশে রয়েছে একটি করে করিনথীয় পিলার।

প্রতি তলায় পিলারগুলোর দুই পাশে আছে একটি করে দরজা। এদের প্রতিটির কাঠের পাল­ার ভ্যানিশিং ব­াইন্ড ও টিমপেনামে লতাপাতার নকশার দেখা মেলে। সামনেই অপ্রশস্ত খোলা বেলকনি, এর ওপরের অংশের কার্নিস বক্রাকার, বেলস্ট্রেড নকশা করা।

মধ্যবর্তী অংশে ছাদের সামনের দিকে আট কোনাকার এবং খিলান দেয়া বড় ছত্রী। এর ছাদ আধাগোলাকার গম্বুজ। প্রসাদের দুই কোণে দুই করিনথীয় পিলারের ওপরে দিকেও রয়েছে ছত্রী নকশা। প্রতি তলায় ছোট-বড় কক্ষ আছে ১৩টি। নীচ তলার পশ্চিমাংশের বাঁদিকে ওপরের তলায় যাওয়ার ঘূর্ণায়মান সিঁড়ি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঘুরে আসুন মেঘের রাজ্য নীলগিরি

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রকৃতির এক অনন্য দান বান্দরবানের নীলগিরি। যেখানে গেলে দেখতে পারবেন মেঘ আর পাহাড়ের মিতালী। যেখানে মেঘেরা আপন থেকে ছুঁয়ে...

দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৫ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। সকাল সোয়া ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is