ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

2018-11-21

, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

দাজ্জালের আবির্ভাব আক্ষরিক, নাকি রূপক?

প্রকাশিত: ০৮:৫৩ , ১৯ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ০৯:৪২ , ১৯ অক্টোবর ২০১৭

।। সৈয়দ মমিনুজ্জামান ।।

রক্ত ঠান্ডা হয়ে শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যেতো। ভয়ে থাকতাম অসাড়। গুটিশুটি মেরে দাদিমার শরীর ঘেঁষে শুয়ে থাকতাম অনড়, কিন্তু কান থাকতো খোলা। একটা শব্দও পিছলে যেত না। অব্যক্ত দাঁড়ি-কমাও বুঝে নিতাম। সবই আস্বাদন করতাম।

ভূতের গল্পমাত্রই ছিলো উপাদেয়। দাদিমার মুখে দাজ্জালের গল্প সত্যিই ছিলো ভয়াবহ। একাচোখা দাজ্জালের কায়া যেন পাহাড়ের সমান। বিশাল পাথারে শুধু ছুঁয়ে যায় তার গোড়ালিটুকু। মেঘের গতিতে ছুটে বেড়ায় অবলীলায়। আরও কত কি তার গুণপনা! ভয়ে থাকতাম জবুথবু, অবয়ব থাকতো অসাড়। আর ধর্মবোধ হতো মর্মমূলে আরো প্রোথিত। কিন্তু এই গভীরতায় কোন প্রজ্ঞার সমন্বয় ছিলো না। ছিলো ভয়, আর ভয় থেকেই খোদার প্রতি আত্মনিবেদন।

আজ পরিণত বয়সে এসে স্পষ্ট আর দৃশ্যমান হয় সবই। যুক্তিমুক্ত মনে পবিত্র কোরআন শরীফ পড়া আর গবেষণালব্ধ জ্ঞান আমায় পৌঁছে দিয়েছে জানবার নতুন ঠিকানায়। দাজ্জাল নিয়ে পবিত্র কোরআনে স্পষ্টত কিছু নেই। তবে বিভিন্ন ইসলামি পণ্ডিতগণ হাদিসের আলোকে এর বিভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন, যার কিনা আবির্ভাব হবে কিয়ামতের আগে। যাই হোক, আধুনিক চিন্তাবিদদের মতে দাজ্জালের আগমন কোনোভাবেই আক্ষরিক অর্থে নয়। অবশ্যই এটি রূপক।

আরবি দাজ্জাল শব্দটি সিরিয়াক অ্যারামাইক ভাষার ‘দাগ্গাল’ শব্দ থেকে উৎপত্তি। এর আক্ষরিক অর্থ মিথ্যাবাদী। সুতরাং যে মিথ্যাচারিতা করে, সত্যকে আড়াল করে এবং প্রতারণার আশ্রয় নেয়, সে ব্যক্তিই দাজ্জালের আরেক রূপ। সমাজে এমন অনেকেই আছে, যারা মিথ্যার পূজারী এবং মিথ্যাকেই পুঁজি করেই তাদের জয়যাত্রা।

আধুনিক বিশ্বে যে যুদ্ধবিগ্রহ ও ধ্বংসাত্মক খেলা চলছে, তা দাজ্জালের হিংস্রতাকেও যেন হার মানায়। সুতরাং দাজ্জাল তারাই, যারা সমস্ত যুদ্ধবিগ্রহের মূলে, যারা যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়, যারা দুর্নীতি ও সহিংসতার পথ বেছে নেয় এবং ধর্মের নামে ও জাতীয়তাবাদের নামে মানুষ পোড়ায় ও তাদের উচ্ছেদ করে।

অন্যদিকে দাজ্জাল হবে এক চক্ষুবিশিষ্ট। যার দক্ষিণ চোখ হবে অন্ধ। রূপক দৃষ্টিকোণ থেকে তার এই অন্ধত্ব নির্দেশ করে সেসব মানুষদের, যাদের আধ্যাত্মিক দৃষ্টি বন্ধ আর পার্থিব দৃষ্টি খোলা। যার ফলে তারা আমোদ-প্রমোদে মত্ত এবং মানবতাবোধ বিবর্জিত। এরা সত্যিকারের ধর্ম থেকে রয়ে যায় যোজন যোজন দূরে। তারা একচোখা, একপেশে  এবং যেকোন কাজে ও সিদ্ধান্তে স্বৈরাচারী মনোভাবাপন্ন। এরা আসলেই একচোখা, হঠকারী এবং একগুঁয়ে। এরা সামরিক সামর্থ্যরে পরীক্ষা দেখায় কোটি কোটি নিরপরাধ মানুষের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে। এরা অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় মত্ত এবং এদের উন্মাদনা আর অসভ্যতায় আধুনিক সভ্যতা যেন ব্যবিলনের মতো বিলীন হবার পথে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

কফি প্যাকেই হোক রূপচর্চা

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রাচীনকাল থেকেই মহিলারা রূপচর্চায় বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে আসছে। কখনও বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির প্রসাধনী আবার...

মার্কিন লেখক স্ট্যান লি আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: স্পাইডারম্যান, ইনক্রেডিবল হাল্কের মত কমিক চরিত্রের স্রষ্টা মার্কিন লেখক ও মার্ভেল কমিক্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট স্ট্যান লি আর...

হুমায়ূন আহমেদের ৭০ তম জন্মদিন আজ

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ।  ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে একটি নতুন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is