ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫

2018-11-13

, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

বাংলার প্রাচীন শহর সোনারগাঁও

প্রকাশিত: ১২:২৯ , ১৫ অক্টোবর ২০১৭ আপডেট: ১২:২৯ , ১৫ অক্টোবর ২০১৭

ডেস্ক প্রতিবেদন: বাংলার প্রাচীন শহর পানাম নগর। দাঁড়িয়ে আছে বহু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। হাজারো সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য বহন করে যুগের পর যুগ ধরে ঢাকার পাশেই রয়েছে পানাম সিটি যা অনেকের কাছে সোনারগাঁও নামেও পরিচিত।

উপভোগ্য নিদর্শন

বাংলার প্রাচীন এই রাজধানীতে দেখার মত রয়েছে বেশ কিছু নির্দশণ। এর মধ্যে রয়েছে ঈশা খাঁর রাজধানী সোনারগাঁও। কথিত রয়েছে ঈশা খাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামে সোনারগাঁও এর নামকরণ করা  হয়েছিল।

সোনারগাঁও-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর যা পানাম নগর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে। এ নগরে একসময় ছিল তাঁত ব্যবসায়ীদের আবাসস্থল, বাংলার মসলিন ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু। ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই নগরী তৎকালীন কাছেপিঠের অন্য সব নগর থেকে ছিল বেশি আকর্ষণীয়। এখানে শুধু যে দালানকোঠা আছে, তা কিন্তু নয়। রয়েছে মসজিদ, মন্দির, কূপ, সরাইখানা, পঞ্চপীরের মাজার এমন আরো অনেক কিছু চোখে পড়বে পানামে এলে। বিকেলের আলোতে পুরোনো দালানগুলো যেন ঝলমলিয়ে ওঠে।

ইতিহাস

প্রায় চারশত বছর আগ হতে পানাম নগরী স্থাপন শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ধাপে ধাপে মোগল নির্মাণ শৈলীর সাথে বৃটিশ স্থাপত্য শৈলীর সংমিশ্রনে প্রায় চারশত বছরের পর্যায় ক্রমিক স্থাপন পুন:স্থাপন প্রক্রিয়ায় পানাম নগরী বর্তমান রূপ লাভ করে।

পানাম নগর লেক বা খাল দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং সুরক্ষিত গেইট দ্বারা আবদ্ধ। সন্ধ্যার পূর্বেই গেইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতো ফলে নগরীর অধিবাসীরা নিরাপদ জীবন যাপন করতো। পানাম নগরীতে মূলত ব্যবসায়ি ও জমিদাররা বসবাস করতেন। এর পাশাপাশি রাজাদের, আমির ওমরাদের জন্য পানাম নগরী ও তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুন কারুকাজ খচিত পাকা ইমারতরাজি। পানাম ও তার আশপাশকে ঘিরে পঞ্চদশ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জনজীবন ছিল। এখানে সরু রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠেছিল অট্টালিকা, সরাইখানা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুরঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর, খাজাঞ্চিখানা, টাকশাল, দরবার কক্ষ, গুপ্তপথ, প্রশস্থ দেয়াল, প্রমোদালয় ইত্যাদি। পানাম নগরীতে দেখা যায় ৪০০ বছরের পুরনো মঠবাড়ি। পানামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পঙ্খীরাজ খাল। এ খাল পানামের গুরুত্বপূর্ন ভবনগুলো ছুঁয়ে পূর্বদিকে মেনিখালি নদ হয়ে মেঘনা নদীতে মিশেছে। পানাম নগরী ছিল মসলিনের বিশাল আড়ং। পানামকে ঘিরে বিকশিত চারুকারুকলাজাত শিল্পের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল এ উপমহাদেশ ছাড়িয়ে পাশ্চাত্যে। আড়ংয়ের তাঁতখানা সোনারগাঁয়ের পানাম নামক স্থানে ছিল এবং মসলিন শিল্প কেনাবেচার এক প্রসিদ্ধ বাজার ছিল পানাম নগরটি। ৫ মিটার প্রশস্থ ও ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি সড়কের দুই পাশে একতলা, দোতলা ও তিনতলা দালান রয়েছে পানামে। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৫২ টি ভবন। পানাম নগরীর মাঝে যে রাস্তা চলে গেছে এর উত্তর পাশে আছে ৩১ টি ভবন এবং দক্ষিণ পাশে আছে ২১টি ভবন।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে করে যেতে পারেন। দোয়েল, বোরাক আর স্বদেশের বাস ছাড়ে সেখান থেকে। ভাড়া বাসভেদে ২৫-৪৫ টাকা। নামবেন সোনারগাঁওয়ের মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড। ওখান থেকে রিকশায় ১৫-২০ টাকা।

এই বিভাগের আরো খবর

মুক্তি পেলেন আমীর খসরু মাহমুদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: নিরাপদ সড়ক আন্দালনের সময় ‘ফোনালাপ’ ফাঁসের ঘটনায় হওয়া এক মামলায় অভিযুক্ত হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is