জঙ্গিদের অর্থের উৎস বন্ধ হয়নি আপডেট: ১১:৫৭, ১৯ মার্চ ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
শক্তি সঞ্চয়ের জন্য খানিকটা নিশ্চুপ থেকে আবারো সক্রিয় জঙ্গিরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে পিছু হটার সাময়িক কৌশল নেয় জঙ্গিরা। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা শেষ হয়ে গেছে, এমনটি ভাবা ভুল। কেননা, তাদের অর্থের উৎস ও বিস্ফোরক তৈরীর যোগান বন্ধ হয়নি। তাই যে কোনো সময় সংগঠিত আত্মঘাতি হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিতে পারছেন না নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন, ঢাকায় প্রস্তাবিত র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের সামনে আত্মঘাতি বোমা হামলাসহ দেশজুড়ে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতা বড় ধরনের নাশকতা হতে পারে এমনটাই ইঙ্গিত বহন করছে। তারা বলেন, ঢাকার আশকোনা ও খিলগাঁওয়ের পাশাপাশি কুমিল্লা, সীতাকুন্ড ও মিরসরাইয়ে হামলা ও আস্তানা খুঁজে পাওয়ার ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে জঙ্গিরা।
আত্মঘাতী হামলার টার্গেট হিসেবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেঁছে নেয়াকে কৌশলগত আক্রমণ হিসেবে  দেখছেন জঙ্গি কর্মকান্ডের বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, মূলত বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দিতেই এই আক্রমন।

অবশ্য এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে  জঙ্গিরা। সোলাকিয়ার ঈদ জামাতে পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ এবং আশুলিয়া ও  আমিনবাজারে বছর দুয়েক আগে হামলা চালায় তারা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গিরা নির্মূল হয়ে গেছে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। বরং তারা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কৌশলী।

তারা বলছেন, জঙ্গিদের কেউ কেউ হয়তো স্থানীয়ভাবে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে থাকতে পারে। একারণেই সম্ভবত আইএস বিচ্ছিন্ন এসব হামলার দায় স্বীকার করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গিরা তাদের এলাকাও বদল করছে। আগে তাদের কর্মকান্ড উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রীক হলেও এখন তারা দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ -পূর্ব এলাকাকে নিরাপদ হিসেবে বেঁছে নিয়ে শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করছে।